ভারতে কনের পোষা কুকুরকে আঘাত করায় সংঘর্ষ, বিয়ের অনুষ্ঠান পণ্ড
ছবি: সংগৃহীত
০৭:১৫ পিএম | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ভারতের উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুর জেলায় এক আনন্দমুখর বিয়ের উৎসব মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। কনের পোষ্য কুকুরকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে শুরু হওয়া সামান্য বিবাদ শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়, যার জেরে ভেস্তে যায় বিয়ের সমস্ত সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা। তবে নাটকীয় মোড় নিয়ে ঐ ঘটনার পাঁচ দিন পর সব বাধা উপেক্ষা করে কনে শেষ পর্যন্ত তার শ্বশুরবাড়িতেই পৌঁছে গেছেন।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ফতেহপুরে প্রয়াগরাজের বাসিন্দা তানিয়া কেশরওয়ানি এবং কানপুরের সুমিতের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। আদতে তানিয়া ও সুমিত গত জানুয়ারি মাসেই বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন, তবে দুই পরিবারের সম্মতিতে এদিন সামাজিকভাবে সেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হচ্ছিল।
উৎসবের আবহে ভোর চারটা নাগাদ গয়না দেওয়ার আচার চলাকালীন কনের পোষ্য কুকুরটি হঠাৎ চিৎকার শুরু করলে বরের বাড়ির এক যুবক সেটিকে আঘাত করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয় যা দ্রুত হাতাহাতিতে পৌঁছায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুই পরিবারের সদস্যরা লাঠি ও চেয়ার নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে নারীসহ অন্তত আটজন আহত হন, যাদের মধ্যে কনের পক্ষের তিনজনের মাথায় গুরুতর চোট লেগেছে। সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষ খাগা থানায় পৌঁছালে সেখানে সামাজিকভাবে এই বিয়ে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে পরিবারের এ সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে তানিয়া পাঁচ দিন পর একা প্রয়াগরাজের বাড়ি ছেড়ে সুমিতের বাড়িতে গিয়ে হাজির হন। শুরুতে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তানিয়া তার অবস্থানে অনড় থাকেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামীর সঙ্গে একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি জানান, তাদের আইনি বিয়ে আগেই সম্পন্ন হয়েছে এবং ফতেহপুরের অনুষ্ঠানটি ছিল কেবল একটি সামাজিক উদযাপন মাত্র।
শেষ পর্যন্ত সমস্ত প্রতিকূলতা জয় করে ভালোবাসার টানে তানিয়া এখন তার শ্বশুরবাড়িতেই অবস্থান করছেন।
তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
এসএন