রাষ্ট্রপতি দিনের পর দিন অপমানিত হয়েছেন : গোলাম মাওলা রনি
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫৪ পিএম | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, ‘গত ১৭-১৮ মাসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদ ও বঙ্গভবনকে যেভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে, তা জাতির জন্য অপমানজনক। রাষ্ট্রপতিকে ব্যক্তি হিসেবে না দেখে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এই সময়ে রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠান ও প্রটোকলের ধারাবাহিকতায় বারবার ব্যত্যয় ঘটেছে।’
রনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগ মনোনীত রাষ্ট্রপতি হলেও তাকে অপমান করার অর্থ রাষ্ট্র এবং ১৮ কোটি নাগরিককে অপমান করা।
এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থার জায়গাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রটোকল অনুসরণে ঘাটতি ছিল। রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দেশের প্রধান ব্যক্তি; প্রধান উপদেষ্টা বা প্রধানমন্ত্রীকে তার সঙ্গে পরামর্শক্রমে কাজ করা এবং বিদেশ সফর শেষে সাক্ষাৎ করতে হয়। এসব প্রথা যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
রনি দাবি করেন, ‘বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র পেশ, শপথ অনুষ্ঠান কিংবা প্রেসিডেনশিয়াল গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) গার্ড অব অনারের মতো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের প্রচার-প্রকাশ কম হয়েছে।’ এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে ভুল বার্তা গেছে বলে তার অভিমত।
কাতার সরকারের একটি চিঠি রাষ্ট্রপতির কাছে না পৌঁছানো এবং তার অজ্ঞাতে জবাব দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে রনি বলেন, ‘যদি এ ধরনের ঘটনা সত্য হয়ে থাকে, তবে তা গুরুতর অনিয়ম এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।’
রনি মনে করেন, ‘রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নন; তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাই এ পদকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সতর্কতা, প্রটোকল মেনে চলা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।’
এমআই/এসএন