© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কারাগার থেকে জামিনে মুক্তির দুই ঘণ্টা পরই যুবককে কুপিয়ে হত্যা

শেয়ার করুন:
কারাগার থেকে জামিনে মুক্তির দুই ঘণ্টা পরই যুবককে কুপিয়ে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:১৯ এএম | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে যাওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা পর ইমন (৩০) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর মিস্ত্রিবাগ এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত ইমন মাসদাইর ঘোষেরবাগ এলাকার ওমর খৈয়াম ও কমলা বেগম দম্পতির বড় ছেলে।
 
জানা যায়, একটি মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাসায় যান ইমন। এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাসা থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ফতুল্লার মাসদাইর মিস্ত্রিবাগ এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরিবারের দাবি, মাদক ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দেয়ায় ইমনকে তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তবে পুলিশ বলছে, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
 
নিহত ইমনের বাবা ওমর খৈয়াম জানান, তার দুই ছেলের মধ্যে ইমন বড় এবং আল আমিন ছোট। বড় ছেলে ইমন তার সাথে বিদ্যুৎমিস্ত্রির কাজ করতেন। এ ছাড়া এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতেন। দেড় মাস আগে সন্ত্রাসীদের ধরিয়ে দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে ইমন নিজেও গ্রেফতার হন।
 
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সোমবার আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর রাত সাড়ে ৭টায় ইমনকে কারাগার থেকে বাসায় নিয়ে আসি। বাসায় এসে ইমন খাওয়াদাওয়া করে পরিবারের সবার সঙ্গে কথা বলছিল। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফেরদৌস কথা বলার জন্য ইমনকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারি, ফেরদৌস ইমনকে মাদক ব্যবসায়ী জাহিদ ও তার বাহিনীর চক্ষু হৃদয় এবং চশমা সাব্বিরের হাতে তুলে দেয়। তারা ইমনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে আমরা ইমনকে সেখান থেকে উদ্ধার করে শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
 
ছেলে ইমনের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন বাবা ওমর খৈয়াম।
 
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি থানা-পুলিশ নিয়ে হাসপাতালে যাই এবং নিহতের লাশ উদ্ধার করি। পরে সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করি।’
 
ওসি আরও বলেন, ‘এলাকায় মাদক ব্যবসা ও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

এসএস/টিএ

মন্তব্য করুন