© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাংবাদিকদের বেধড়ক পিটুনি

শেয়ার করুন:
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাংবাদিকদের বেধড়ক পিটুনি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:০৭ এএম | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। বারবার নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও কোনো তোয়াক্কা না করে পুলিশ তাদের বেধড়ক লাঠিপেটা ও শারীরিক নির্যাতন চালায়।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে মাদকবিরোধী অভিযানের সংবাদ সরাসরি সম্প্রচার করার সময় এ ঘটনা ঘটে। বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর লাঠিচার্জ করে একদল পুলিশ সদস্য।

আহত সাংবাদিকেরা হলেন- বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদ, আকাশ (এনপিবি নিউজ) ও কাওসার আহমেদ রিপন (আজকের পত্রিকা)। তাদের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর জখম হয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযানে নামে পুলিশ। জনগুরুত্বপূর্ণ এ অভিযানের দৃশ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে ফেসবুক লাইভ করছিলেন সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ‘আজকের পত্রিকা’র মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কাওসার আহম্মেদ রিপন বলেন, পুলিশ কোনো ধরনের বাছবিচার ছাড়াই সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। তোফায়েলকে যখন মারা হচ্ছিল, তখন আমরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করি। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা এতটাই মারমুখী ছিলেন যে, তারা আমাদেরও লাঠিপেটা করে। পুলিশের বেধড়ক পিটুনিতে গুরুতর আহত তোফায়েল আহমেদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে।

মাথায় ও পিঠে আঘাতের ফলে তার রক্তক্ষরণ ও তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হয়। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভোঁতা অস্ত্রের (লাঠি) আঘাতে তার শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর ক্রাইম বিটের প্রধান সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট আবাদুজ্জামান শিমুল বলেন, এর আগেও পুলিশের রমনা পার্ক এলাকায় পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযান সরাসরি বাংলানিউজের পক্ষ থেকে লাইভ সম্প্রচার ও সংবাদ আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ দমনের কার্যক্রম প্রশংসনীয়ভাবে তুলে ধরতে প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, আজও একই ধারাবাহিকতায় মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিও ধারণ করতে গেলে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিক তোফায়েল-এর ওপর পুলিশের একটি দল বেপরোয়া লাঠিচার্জ ও মারধর চালায়, যা ভিডিও ফুটেজে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, যেহেতু ভিডিও ফুটেজ আছে, তাই ভিডিও দেখে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসএস/টিএ

মন্তব্য করুন