© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বার্গারে পচা মাংস, পোড়া তেল ও নষ্ট খাবার, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

শেয়ার করুন:
বার্গারে পচা মাংস, পোড়া তেল ও নষ্ট খাবার, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:২০ এএম | ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বার্গারের জন্য পচা মাংস, পোকাযুক্ত ডাল, বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়া সেমাই তৈরি আর পোড়া তেলে নামীদামি বেকারি তৈরি এসবই ধরা পড়ল জয়পুরহাটে ভোক্তা অধিকার ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে। শুধু তাই নয়, হাইব্রিড সরিষা দিয়ে তৈরি তেলকে ‘দেশি’ বলে চালিয়ে দেওয়ার প্রতারণাও ধরা পড়েছে। 

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের তিনটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে।

অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও প্রতারণার দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের দুটি ধারায় মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- জেলা শহরের ধানমন্ডি এলাকার বনলতা সুইটস অ্যান্ড বেকারি, তেঘর এলাকার রাতুল বেকারি ও ধানমন্ডি এলাকার সাহেদা-খালেদ এগ্রো প্রসেসিং মিলস (তেলকল)। এদের মধ্যে বনলতা সুইটস অ্যান্ড বেকারি ও রাতুল বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা এবং সাহেদা-খালেদ এগ্রো প্রসেসিং মিলসকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জয়পুরহাটের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান। এসময় জয়পুরহাট র‍্যাব ক্যাম্পের স্কোয়াড কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নুরুল হুদা উপস্থিত ছিলেন।

ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, বনলতা ও রাতুল বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাওয়া গেছে। বনলতা বেকারিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ বিভিন্ন ধরনের পণ্য, বার্গার তৈরির চিকেন ছিল নষ্ট ও পচা এবং পোকাযুক্ত নষ্ট ডাল পাওয়া গেছে। এছাড়া বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ফ্লেভার কালার ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধরনের নষ্ট খাবারগুলোতে পরবর্তীতে ভালো খাবারের সাথে মিশ্রণ করে আবার বাজারজাত করার প্রক্রিয়া চলছিল।

তিনি বলেন, রাতুল বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ছাড়াও তারা যে ঝুরি তৈরি করে, তাতে রং ব্যবহার করেন। সেখানে আমরা ২৬ লিটার পোড়া তেল পেয়েছি, সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তারা যে সেমাই তৈরি করে, এর কোন ধরনের বিএসটিআই অনুমোদন নেই। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার ও ভালো খাবার সাথে একসাথে রেখে দেওয়া ছিল।
এছাড়া একটি তেলকল দেশি সরিষা বলে তেল বিক্রি করতো। কিন্তু দেশি সরিষার প্রমাণ তারা দেখাতে পারেনি। ওই সরিষা ছিল বিদেশি এবং হাইব্রিড জাতের। এসব তারা দেশি সরিষার সাথে মিশ্রিত করে তেল তৈরি করে দেশি সরিষার দামে বিক্রি করতো বলে জানান ভোক্তা অধিকারের এই কর্মকর্তা।

এদিকে জেলা প্রশাসন ও বিএসটিআইয়ের সমন্বয়ে শহরের নতুনহাট এলাকায় আমিন মাছের দোকানে ডিজিটাল স্কেলে পরিমাণে কম দেওয়ার অপরাধে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদ হোসেন।

আরআই/ এসএন

মন্তব্য করুন