এবার ইউরোপের একটি দেশে হামলা চালাল ইরান
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৫১ পিএম | ০১ মার্চ, ২০২৬
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার কঠোরহস্তে জবাব দিচ্ছে ইরান। ইহুদিবাদী ভূখণ্ড লক্ষ্যবস্তু করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রায় সব স্থাপনায় আঘাত হেনেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বাহিনী। এবার সাইপ্রাসকে টার্গেট করেছে ইরান।
ভৌগোলিকভাবে পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত ছোট্ট দেশটিতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। এ তথ্য নিশ্চিত করে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, ইরান সাইপ্রাসের অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যেখানে ব্রিটিশ সৈন্যরা মোতায়েন আছে।
তিনি বলেন, তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই দ্বীপে অবস্থিত ব্রিটিশ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হামলা প্রসঙ্গে হিলি বলেন, ‘আমরা মোটামুটি নিশ্চিত যে আমাদের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এগুলো ছোড়া হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, এই হামলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে যে ইরানের এই প্রতিশোধমূলক হামলা কতটা ‘বিবেচনাহীন’।
তিনি জানান, বাহরাইনে আক্রান্ত স্থানগুলোর কাছাকাছি প্রায় ৩০০ ব্রিটিশ সৈন্য মোতায়েন আছেন।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানে ইরানের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একদিন পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী সকালের সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার প্রকাশ করেছিলেন যে, রক্ষণাত্মক অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ‘যুদ্ধবিমান’ মোতায়েন করেছে।
সাইপ্রাস ভৌগোলিকভাবে পশ্চিম এশিয়ার দেশ হলেও ঐতিহাসিকভাবে এবং রাজনৈতিকভাবে এটি নিজেকে ইউরোপের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইউ) সদস্য রাষ্ট্র। এটি ২০০৪ সালের ১ মে এই জোটে যোগদান করে।
সাইপ্রাস ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরো মুদ্রা গ্রহণ করে এবং বর্তমানে এটি ইউরোজোনেরও অন্তর্ভুক্ত।
পশ্চিম এশিয়ার দেশ সাইপ্রাসের সঙ্গে ইসরাইলের খুবই ঘনিষ্ট সম্পর্ক আছে। সেখানে ইসরাইলের বিপুল বিনিয়োগ ও সম্পত্তি আছে। এছাড়া তেল আবিব আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে তাদের উড়োজাহাজের বহরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সেখানে লুকিয়ে রাখে বলে কথিত আছে। এ কারণে দেশটিকে ইসরাইলের গুদামঘরও বলা হয়। এ কারণে গত বছরের জুনের ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও সাইপ্রাসে হামলা করেছিল ইরান।
কেএন/টিএ