© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হানিমুনে গিয়ে যুদ্ধের কারণে আলাদা হলেন চীনা দম্পতি

শেয়ার করুন:
হানিমুনে গিয়ে যুদ্ধের কারণে আলাদা হলেন চীনা দম্পতি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:২৭ পিএম | ০৫ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার কারণে অনেক দেশের আকাশপথ বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রায় ১০ লাখের বেশি যাত্রীর ভ্রমণ ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে হানিমুনে যাওয়া এক চীনা দম্পতি আলাদা হয়ে গেছেন। ফ্লাইট বিড়ম্বনার কারণে তারা দুজন এখন দুই দেশে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানান, চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের এই নবদম্পতি ১৯ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে ঘুরতে যান। তারা সূর্যাস্তের সুন্দর দৃশ্য উপভোগের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করছিলেন। তাদের ভ্রমণের শেষ গন্তব্য ছিল কাতারের রাজধানী দোহা।

স্বামীর (ছদ্মনাম ইউ) কর্মস্থল অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন হওয়ায় তারা দোহা থেকে সিডনির ফ্লাইটে বিজনেস ক্লাসে আপগ্রেড করেন। কিন্তু এয়ারলাইনের নীতিমালা অনুযায়ী তারা একই ফ্লাইটে আসন নিশ্চিত করতে পারেননি।

স্ত্রী ঝেং ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টার ফ্লাইটে টিকিট পান। আর স্বামী ইউয়ের টিকিট ছিল পরের দিনের একই ফ্লাইটে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।

দুবাই, আবুধাবি ও দোহাসহ অনেকগুলো বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়াম জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ১১ হাজার ফ্লাইট বাতিল হয় এবং এতে ১০ লাখের বেশি যাত্রী আটকে পড়েন। এই পরিস্থিতির মধ্যেও স্ত্রী ঝেং নির্ধারিত সময়ে দোহা থেকে যেতে পারলেও তার স্বামী ইউ সেখানে আটকে পড়েন। পরে তিনি নিজের ফ্লাইট ১৩ মার্চে পরিবর্তন করেন।

অপেক্ষা করার সময় ইউ দোহার শহরের একটি হোটেলে থাকেন।

সেখান থেকে তিনি আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখতে পান। তিনি বলেন, ‘জীবনে প্রথমবার বুঝলাম যুদ্ধ কতটা কাছে চলে আসতে পারে।’

ইউ তার কম্পানিকে বিষয়টি জানালে তারা তাকে নিরাপত্তা বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে বলে। অন্যদিকে স্ত্রী ঝেং তার স্বামীর নিরাপত্তা নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন।

এরই মধ্যে চীন সরকার তাদের নাগরিকদের ইরান ও আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। দেশটি ইতিমধ্যে ইরান থেকে ৩,০০০-এর বেশি চীনা নাগরিককে সরিয়ে নিয়েছে।

এশকে/টিকে

মন্তব্য করুন