© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

নারীদের অনেক সময় দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক মনে করা হয়: কনকচাঁপা

শেয়ার করুন:
নারীদের অনেক সময় দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক মনে করা হয়: কনকচাঁপা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:১২ পিএম | ০৮ মার্চ, ২০২৬
আজ (৮ মার্চ) রোববার আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে নারীর অবস্থা এখন কেমন আর কেমন প্রত্যাশা করেন সেসব নিয়ে দেশের একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন শ্রোতানন্দিত সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা।

কনকচাঁপা বলেন, এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য রাইটস, জাস্টিস, অ্যাকশন। প্রতিবারই এক একটি বিষয়কে প্রতিপাদ্য করা হয়। প্রতিটি প্রতিপাদ্যই আমাদের জীবনে যথাযথভাবে প্রয়োগ করা উচিত। আমি মনে করি, নারীকে প্রথমত ও শেষ পর্যন্ত মানুষ হিসেবে গণ্য করতে হবে। এই চিন্তাটা যখন আমাদের সবার মধ্যে আসবে, সেদিন আর নারী দিবস পালনের প্রয়োজন হবে না, এমন দিনের অপেক্ষায় আছি আমি। একজন নারী হিসেবে অবশ্যই আমি একজন গর্বিত মানুষ।

তিনি বলেন, আমার মা একজন নারী, আমার কন্যা একজন নারী। আমাদের নারীদের আলাদা শক্তি আছে। সেই শক্তিটাকে কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না। তা হলো আমরা গর্ভধারণ করতে পারি, শরীরে সন্তান ধারণ করতে পারি। পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের অনেক সময় দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক মনে করা হয়। কিন্তু আমি মনে করি, নারী না থাকলে এই পৃথিবী সামনে এগোতে পারবে না। এই একটি জায়গা থেকেই নারী যদি অন্য কোনো কাজ নাও করে, তারপরও এই গর্বিত দায়িত্ব পালনের জন্য নারীরা সম্মানের দাবিদার।



তিনি আরও বলেন, পেশিশক্তি সবারই আছে। মানুষ মাত্রই পেশিশক্তির অধিকারী। কিন্তু অনেক পুরুষকে সেই শক্তি ব্যবহার করতে হয় না। আর আমরা নারীরা আমাদের যতটুকু শক্তি আছে, সংসারে তার প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করি। সেটা রান্না করা হোক, কাপড় কাচা হোক, সন্তান জন্ম দেওয়া হোক, তাকে লালন-পালন করা হোক, ঘর গোছানো হোক, একটি সুটকেস আলমারির ওপরে তোলা হোক, এমনকি কোদাল নিয়ে মাটি কাটা থেকে গার্মেন্টসে কাজ করা পর্যন্ত। অর্থাৎ যতটুকু শক্তি আছে, তার পুরোটাই নারী ব্যবহার করে। আরও গর্বের বিষয় হলো, একজন নারী নিজের ঘরে বসে সামান্য কাগজের ফুল বানিয়ে বিক্রি করে যেমন অন্নসংস্থান করতে পারে, তেমনি বিমান চালানোসহ নানান কাজেও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছে যুগের পর যুগ। আমি মনে করি, এখন আর নারীকে আলাদা করে ‘নারী’ ডাকার কোনো অর্থ নেই। যেদিন নারীরা কোনো বিশেষণ ছাড়া কেবল মানুষ হিসেবে, প্রথম শ্রেণির নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে, সেদিনই আমরা সত্যিকারের সন্তুষ্ট হবো। আমি সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।

কনকচাঁপা বলেন, আমি বিশেষ করে চাই, এই সরকার যেন ধর্ষণের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে সোচ্চার হয়। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণের পক্ষ নিয়ে আইনজীবীরা যে কাজ করেন, সেই বিষয়টিও সূক্ষ্মভাবে দেখা দরকার। কারণ এটি আমাদের নারীদের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। আমাদের নারীরা, আমাদের কন্যারা, কেউই নিজেদের পুরোপুরি নিরাপদ মনে করতে পারছে না। কিন্তু এই সময়ে, এই সভ্য সমাজে এসে এমন পরিবেশ থাকা উচিত নয়।

‘নতুন সরকারের কাছে আমার প্রত্যাশা, নারীদের স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষ করে মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমজীবী নারীদের সমান মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। এখনো দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে নারীরা একই কাজ করেও পুরুষদের তুলনায় অর্ধেক মজুরি পান। এমন বৈষম্য দ্রুত আমাদের দেশ থেকে দূর হওয়া প্রয়োজন। আর ধর্ষকদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।’

সবশেষ তিনি বলেন, নারী দিবস উপলক্ষে তিন-চারটি অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছি। সেখানে আমাদের দেশের নারীদের বর্তমান অবস্থা ও নারী অধিকার নিয়ে কথা বলব

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন