নারীর ক্ষমতায়নে অবৈতনিক স্নাতকোত্তর শিক্ষা চালু হবে : শামা ওবায়েদ
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০৪ পিএম | ০৮ মার্চ, ২০২৬
নারীর ক্ষমতায়ন, সমতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার মেয়েদের জন্য অবৈতনিক স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম চালু করবে। এ ছাড়া অনলাইনে হয়রানি, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, ধর্ষণ, নির্যাতন, এসিড আক্রমণ এবং নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৮ মার্চ) রাজধানীর তোপখানা রোডে অবস্থিত জাতীয় প্রেস ক্লাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভাটি আয়োজন করে জাতীয় প্রেস ক্লাব।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমি সরকারের অংশ হতে পারি, কিন্তু আমার বড় পরিচয় আমি একজন মা, একজন মেয়ে, একজন নারী। আমি আমার অবস্থান থেকে চাইব, একজন ধর্ষক সে যে–ই হোক, তাকে বাংলাদেশের আইনে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। এবারের প্রতিপাদ্য মনে করিয়ে দেয় যে এটি নারীদের পথপ্রদর্শক।
আজকের এই বিশেষ দিনে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করি সদ্যপ্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি কেবল একটি রাজনৈতিক অধ্যায়েরই সূচনা করেননি, নারীর ক্ষমতায়নের ইতিহাসে এক দীপ্তিমান মহাকাব্য রচনা করেছিলেন। তিনি নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়াকে পথপ্রদর্শক হিসেবে সম্মান করতেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ বলেন, নারীর প্রতি যে সহিংসতা সেটা ভয়ংকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন একটা আতঙ্কজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। আমাদের দেশের রাজনীতিতে নারীর যে অংশগ্রহণ সেটা অত্যন্ত শোচনীয়। এর জন্য নারীদের দোষারোপ করা যাবে না, আমাদের সমাজ ব্যবস্থাটা এমন হয়েছে যে আমরা মুখে বলি, কিন্তু কাজে নারীর ক্ষমতায়ন করি না, বাধা হয়ে দাঁড়াই। আমরা চাই একটা সমতা থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা মেরুদণ্ডসম্পন্ন পররাষ্ট্রনীতি আশা করি। আমরা সীমান্তে আর ফেলানীর লাশ দেখতে চাই না, রক্তপাত দেখতে চাই না। আমরা ভারতের সঙ্গে সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব চাই। আমরা প্রতিবেশী বদলাতে পারব না, কিন্তু অন্যায়ের প্রতিবাদ করব। আমরা স্বাধীন দেশ। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে যেন আপস না করি।
অনুষ্ঠানে নারী সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মমতাজ বিলকিস বানুকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এ সময় মমতাজ বিলকিস বানু বলেন, একজন সাংবাদিক যদি সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বা জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে সম্মান পান, তার গুরুত্ব অনেক বেশি। এ সম্মাননা আমাকে আরো সৃজনশীল কাজ করার অনুপ্রেরণা দেবে।
প্রেস ক্লাবের নারী ও শিশুশিক্ষা উপ-কমিটির আহ্বায়ক শাহনাজ বেগম পলির সঞ্চালনায় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমদ, কাজী রওনাক হোসেন, মোহাম্মদ মোমিন হোসেন ও এ কে এম মহসীন প্রমুখ।
আইকে/টিএ