পেজেশকিয়ানকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সতর্কবার্তা
ছবি: সংগৃহীত
১১:১৩ এএম | ১০ মার্চ, ২০২৬
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান গত সোমবার (৯ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে এক ফোনালাপে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং তুরস্কের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র অনুপ্রবেশের ঘটনা নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তরের বরাতে জানা গেছে, এরদোগান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখা হবে।
তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সিরিয়া ও ইরাক অতিক্রম করে তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে পেজেশকিয়ানের অনুরোধেই দুই নেতার মধ্যে এই জরুরি আলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
ফোনালাপে এরদোগান জানান যে, যেসব সংঘাতে তুরস্ক সরাসরি যুক্ত নয়, সেগুলোর মাধ্যমে দেশটি নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা কারোর জন্যই কল্যাণকর নয় এবং এ ধরনের পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন যে, ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইরানি বংশোদ্ভূত ছিল না এবং তেহরান বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি ব্যাপক তদন্ত পরিচালনা করবে।
একই সাথে এরদোগান কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে তুরস্কের মধ্যস্থতা ও সক্রিয় সম্পৃক্ততার কথা পুনরায় ব্যক্ত করেন। আলাপকালে তিনি গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হওয়া হামলার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য যে, ওই দিন থেকেই ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরু হয়, যাতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নিহত হন। এরদোগান খামেনির মৃত্যুতে সমবেদনা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নির্বাচন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
সূত্র: আনাদুলু এজেন্সি
কেএন/টিকে