সব বিষয়ে বিরোধিতা করব না, আবার না বুঝে সহযোগিতাও করব না: জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৩২ পিএম | ১১ মার্চ, ২০২৬
জাতীয় সংসদে বিরোধী দল সরকার দলের সব বিষয়ে বিরোধিতা করবে না বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। আবার কোনো বিষয়ে না জেনে-বুঝে সমর্থনও দেবে না বিরোধী দল। দেশ ও জাতির স্বার্থে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিয়ে প্রয়োজনে জনগণকে নিয়ে রাজপথে প্রতিবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার বিরোধী দলের সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় ১১ দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সভা শেষে সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের সামনে ব্রিফ করেন জামায়াত আমির। ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, ‘আগামীকাল ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এ উপলক্ষে আজ বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্য নিয়ে আমরা বৈঠকে বসেছিলাম। জাতির প্রত্যাশা পূরণে বিরোধী দল হিসেবে এবং নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দেশ ও জাতির জন্য আমাদের ভূমিকা কী হবে সেই বিষয়েই মূলত আমরা পরামর্শ করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সংসদীয় জোটের নির্বাচিত এমপিরা আজকের সভায় উপস্থিত ছিলেন। আমরা খোলামেলা আলোচনা করেছি এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিয়েছি।
আমরা চাই, জাতীয় সংসদ দেশ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ও অর্থবহ ভূমিকা পালন করুক। ইতোমধ্যেই আমরা ঘোষণা করেছি বিরোধী দল হিসেবে আমরা একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘সংসদে আমরা সব বিষয়ে বিরোধিতা করব না, আবার না বুঝে কোনো সহযোগিতাও করব না। দেশ ও জাতির কল্যাণে সরকার যে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, সেসব ক্ষেত্রে আমাদের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে। তবে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নেওয়া হলে আমরা আমাদের দায়িত্ব অনুযায়ী ভূমিকা পালন করব।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘প্রথমে আমরা ভুল ধরিয়ে দেব, সংশোধনের সুযোগ দেব এবং পরামর্শ দেব। যদি দেখি পরামর্শে কাজ হচ্ছে না, তাহলে আমরা প্রতিবাদ করব। প্রতিবাদেও যদি কাজ না হয়, তাহলে জনগণের অধিকারের পক্ষে আমরা দৃঢ়ভাবে দাঁড়াব। আমরা চাই, প্রথম ধাপেই সমস্যার সমাধান হোক।’
সংসদে সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে অনেক কিছু করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। তবে তিনি মনে করেন, আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে সেটিই জাতির জন্য উত্তম হবে।
এ সময় জামায়াত আমির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন মূলত ২০২৬ সালে হওয়ার কথা ছিল না। সংবিধান অনুযায়ী এটি ২০২৯ সালে হওয়ার কথা ছিল। ২০২৪ সালের আন্দোলন সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষা, অসংখ্য শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাইকে সম্মান করলেই ২০২৪-এর চেতনা বেঁচে থাকবে এবং ২০২৬ অর্থবহ হবে। ২০২৪-এর চেতনাকে অস্বীকার করলে ২০২৬-এর অস্তিত্বও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।’গণভোটে যে চারটি বিষয় উত্থাপিত হয়েছিল, সেগুলো হুবহু গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়েছেন জামায়াত আমির। এ বিষয়ে বিরোধী দল থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি, বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করব না। সহযোগিতা করলে তা হবে দেশ ও জনগণের কল্যাণে, আর বিরোধিতা করলে সেটিও হবে দেশ ও জনগণের অধিকারের পক্ষে। প্রয়োজনে সংসদের ভেতরে আমরা লড়াই করব, প্রয়োজন হলে রাজপথেও করব। এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’
এসএস/টিএ