ঈদ শপিংয়ে বের হওয়ার আগে ৫টি সতর্কতা
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০২ এএম | ১৪ মার্চ, ২০২৬
পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে জমে উঠতে শুরু করেছে কেনাকাটার বাজার। পোশাকের দোকান থেকে শুরু করে জুতার শোরুম সর্বত্রই ক্রেতাদের আনাগোনা। তবে উৎসবের এই আনন্দ যেন ভোগান্তিতে রূপ না নেয়, সেজন্য কেনাকাটা করতে বের হওয়ার আগে কিছু বিষয়ের ওপর নজর দেয়া উচিৎ। কারণ, অগোছালো কেনাকাটা যেমন সময়ের অপচয় করে, তেমনি বাজেটের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করে।
ঈদের কেনাকাটা করতে বের হওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলে সময়, টাকা এবং ঝামেলা তিনটিই অনেকটাই কমে যায়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো:
ঈদের কেনাকাটা মানেই আনন্দ, তবে সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে ভিড় আর গরমে এই আনন্দই মাঝেমধ্যে বিরক্তিতে রূপ নিতে পারে। তাই কেনাকাটা সহজ ও আনন্দদায়ক করতে বের হওয়ার আগে নিচের বিষয়গুলো একটু ঝালিয়ে নিন:
১. বাজেট ও তালিকা ঠিক করুন
হুটহাট কেনাকাটা করলে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা হয়ে যায়, আর বাজেটও ছাড়িয়ে যায়।
তালিকা তৈরি: কার জন্য কী কিনবেন, তার একটি স্পষ্ট তালিকা তৈরি করুন। মার্কেটে গিয়ে তালিকা ধরে ধরে শপিং করুন। তাহলে অযথা ঘোরাঘুরি করতে হবে না আবার কোনো কিছু কিনতে ভুলেও যাবেন না।
বাজেট নির্ধারণ: মোট কত টাকা খরচ করবেন তা আগে থেকেই ঠিক করে নিন, এতে পকেট ও মন দুই-ই শান্ত থাকবে।
দাম যাচাই: একই পণ্যের দাম বিভিন্ন দোকানে ভিন্ন হতে পারে। তাই একাধিক দোকানে দাম যাচাই করে কিনলে ভালো মানের জিনিস তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। কখনও কখনও অনলাইনে একই পণ্য কম দামে পাওয়া যায়। তাই বাজারে যাওয়ার আগে অনলাইনে দাম দেখে নেওয়া ভালো।
সাইজ ও মান: পোশাক বা জুতা কেনার সময় সাইজ, কাপড়ের মান, সেলাই ইত্যাদি ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। অনেক সময় ঈদের ভিড়ে তাড়াহুড়ায় ভুল সাইজ বা খারাপ পণ্য কিনে ফেলা হয়।
রসিদ সংরক্ষণ: কোনো পণ্য বদল বা ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন হলে রসিদ দরকার হয়। তাই কেনাকাটার রসিদ সংরক্ষণ করে রাখুন।
২. সময়ের পরিকল্পনা
ভিড় এড়াতে চাইলে সময়ের দিকে বিশেষ নজর দিন।
সকাল সকাল বের হওয়া: মার্কেট খোলার পরপরই চলে গেলে ভিড় কম থাকে এবং শান্তিতে জিনিস পছন্দ করা যায়।
ছুটির দিন এড়িয়ে চলা: সম্ভব হলে শুক্রবার বা শনিবার ছাড়া সপ্তাহের অন্য দিনে কেনাকাটা সারুন।
৩. পোশাক ও আরামের গুরুত্ব
কেনাকাটার সময় দীর্ঘক্ষণ হাঁটতে হতে পারে, তাই নিজের আরামের কথা ভুলবেন না। বিশেষ করে যদি রোজাদার হন তাহলে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
আরামদায়ক জুতো: হিল বা নতুন জুতো পরে মার্কেটে না যাওয়াই ভালো। ফ্লাট বা আরামদায়ক স্যান্ডেল বেছে নিন।
সুতি পোশাক: গরমের কথা মাথায় রেখে হালকা সুতি পোশাক পরুন।
ব্যাগ: একটি বড় ও মজবুত ব্যাগ সাথে রাখুন যাতে সব কেনাকাটা একসাথে রাখা যায়।
৪. প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ সাথে রাখা
কেনাকাটার উত্তেজনায় আমরা ছোটখাটো জিনিস ভুলে যাই যা পরে ভোগান্তির কারণ হয়।
পানির বোতল ও হালকা খাবার: রমজানে যারা রোজা রাখেন তাদের দিনের বেলায় খাওয়া দাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তারা ইফতারের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু খাবার সঙ্গে রাখতে পারেন। মার্কেটে দীর্ঘ সময় হাঁটলে ক্লান্তি আসতে পারে, তাই সাথে পানি ও খেজুর বা বিস্কুট রাখা ভালো।
পাওয়ার ব্যাংক: সারাদিন বাইরে থাকলে ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হতে পারে।
ছোট নোট বা পরিমাপ: ছোটদের জামার মাপ বা পছন্দের রঙের নমুনা (ম্যাচিং করার জন্য) সাথে রাখুন।
৫. নিরাপত্তা ও সতর্কতা
উৎসবের বাজারে পকেটমার বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে সাবধান থাকা জরুরি।
নগদ টাকা ও কার্ড: সব টাকা এক জায়গায় না রেখে ভাগ করে রাখুন। কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা আছে কি না জেনে নিন।
ভিড় এড়িয়ে চলা: অতিরিক্ত ভিড় দেখলে সেখানে প্রবেশ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
অনলাইনে কেনাকাটায় সতর্কতা
যারা ভিড় এড়াতে অনলাইনে কেনাকাটা পছন্দ করেন, তাদের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত পেজ বা ওয়েবসাইট যাচাই করে অর্ডার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডেলিভারি পেতে দেরি হতে পারে, তাই ঈদের অন্তত ১০-১৫ দিন আগেই অর্ডার সম্পন্ন করা জরুরি।
পরিকল্পিত কেনাকাটাই পারে উৎসবের আনন্দকে দ্বিগুণ করতে। অযথা ভিড় এড়িয়ে সুস্থ ও সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিন এখনই।
পিআর/টিএ