দিনে কতটা তেল খাওয়া নিরাপদ?
ছবি: সংগৃহীত
০৭:২১ এএম | ০৫ মে, ২০২৬
দেশি রান্না মানেই যেন তেল-ঝালের দাপট। ভাত, ডাল, মাছ বা সবজি, যেটাই হোক না কেন, একটু বেশি তেল বা ঘি না দিলে অনেকেরই যেন স্বাদ ঠিক জমে না। আবার ভাজাভুজি হলে তো কথাই নেই, তেলে ডুবিয়ে না ভাজলে যেন মনই ভরে না। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন তেল খাওয়ার একটা সীমা থাকা জরুরি।
প্রশ্ন হলো, দিনে আসলে কতটা তেল খাওয়া নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে গড়ে ৩ থেকে ৫ চা চামচ (প্রায় ১৫ থেকে ২৫ মিলিলিটার) তেল যথেষ্ট। এর বেশি খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যাদের অতিরিক্ত ওজন বা হৃদরোগের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ আরো কম, অর্থাৎ ২ চা চামচের বেশি না খাওয়াই ভালো।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, দৈনন্দিন রান্নায় মোট তেল যেন কোনোভাবেই ৫ চা চামচের বেশি না হয়। যত ধরনের খাবারই রান্না করা হোক, এই সীমা বজায় রাখা উচিত। হিসাব অনুযায়ী, ১ চা চামচে প্রায় ৫ গ্রাম তেল থাকে। তাই দিনে ৪-৫ চামচ তেলই শরীর সাধারণত সহ্য করতে পারে। মাসের হিসেবে এটি প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিলিটার তেলের মধ্যে রাখা ভালো।
বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, খাবারে শুধু তেল থেকেই নয়, দুধ, মাছ, মাংস ও বাদামের মতো খাবার থেকেও ফ্যাট বা চর্বি পাওয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও খাদ্য সুরক্ষা সংস্থা (এফএসএসএআই)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, দৈনিক ক্যালরির ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ ফ্যাট থেকে আসা উচিত। তাই রান্নায় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
শারীরিক অবস্থাভেদে তেলের পরিমাণ আরো কমাতে হয়। যেমন : হার্টের রোগ থাকলে দিনে ২ থেকে ৩ চা চামচের বেশি তেল না খাওয়াই ভালো এবং মাখন বা ঘিও এড়িয়ে চলা উচিত। অতিরিক্ত ওজন থাকলে ২ চা চামচ বা তার কম তেল ব্যবহার করাই নিরাপদ, পাশাপাশি ভাপানো বা গ্রিল করা খাবার বেশি খেতে বলা হয়। উচ্চ কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইড থাকলে শুরুতেই তেল ২ চা চামচের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হয়, এবং সর্ষে বা তিলের তেল তুলনামূলক ভালো বলে ধরা হয়।
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটের ভারসাম্য রেখে ৩ থেকে ৪ চা চামচের বেশি তেল না খাওয়াই ভালো।
রান্নায় তেল কমানোর জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ পরামর্শও দিয়েছেন। যেমন বোতল থেকে সরাসরি তেল না ঢেলে চামচ ব্যবহার করা, নন-স্টিক প্যান ব্যবহার করা, মসলা কষানোর সময় সামান্য পানি বা দই ব্যবহার করা এবং ডুবো তেলে ভাজার বদলে এয়ার ফ্রায়ার বা ওভেন করে হালকা তেলে রান্না করা।
তাই তেল একেবারে বাদ না দিয়ে পরিমিত ব্যবহারই হতে পারে সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।
এবি/টিএ