© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

এমন হামলার পরও টিকে যেতে পারে ইরানের সরকার: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

শেয়ার করুন:
এমন হামলার পরও টিকে যেতে পারে ইরানের সরকার: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:২৬ এএম | ১৮ মার্চ, ২০২৬

টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান চললেও ইরানের বর্তমান সরকার এখনো টিকে আছে বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। চলমান এই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। সংঘাত ইতিমধ্যে তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে এবং ইরানের সামরিক ও নৌ সক্ষমতার ব্যাপক ক্ষতিসাধনসহ অন্তত দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এত কিছুর পরও মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো নিশ্চিত করছে, ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনই ভেঙে পড়ার কোনো ঝুঁকিতে নেই এবং সরকার এখনো জনগণের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে; যদিও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি যেকোনো সময় বদলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে সরকার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউসের প্রকৃত লক্ষ্য নিয়ে খোদ মার্কিন রাজনৈতিক মহলেই প্রশ্ন উঠেছে। কানেটিকাটের সিনেটর ক্রিস মারফি একটি রুদ্ধদ্বার ব্রিফিং শেষে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন প্রকৃতপক্ষে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা বা দেশটিতে জোরপূর্বক সরকার পরিবর্তন আনতে চাইছে না। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ট্রাম্প প্রকাশ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের কথা বললেও যুদ্ধের মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে এটি নেই। কারণ, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে এই পারমাণবিক সরঞ্জাম সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয় এবং প্রশাসনও সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে বলে ব্রিফিংয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ত্রিতা পার্সির মতে, হোয়াইট হাউস মূলত ক্রমাগত সামরিক চাপের মাধ্যমে ইরানের শাসনব্যবস্থার একটি অভ্যন্তরীণ ধস প্রত্যাশা করছে। ক্ষমতাশূন্যতা তৈরি হলে জনগণ তা পূরণে এগিয়ে আসবে বলে যে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে প্রেসিডেন্টের একটি 'কাল্পনিক প্রত্যাশা বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। এই সংঘাত এখন কেবল ইরানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই, এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলেও। হামলার কারণে আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ তেল বন্দরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ড্রোন হামলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব মিত্ররা হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের স্বার্থে যুদ্ধ শুরু করে এখন মিত্রদের একা ফেলে রেখেছে।

সার্বিক পরিস্থিতিতে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতের মতো মিত্র দেশগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে কেউ এমন পাল্টা আঘাতের প্রত্যাশা করেনি। তবে মার্কিন কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ইরানে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর এ ধরনের পাল্টা আঘাত আসতে পারে, সে বিষয়ে ট্রাম্পকে আগেই সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন