রাজশাহীতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অভিনেতা শামস সুমন
ছবি: সংগৃহীত
০১:০৮ পিএম | ১৯ মার্চ, ২০২৬
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমনের শিল্পীজীবনের সূচনা হয়েছিল রাজশাহী থেকেই। স্কুলজীবনে রাজশাহী বেতারে অভিনয়ের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন এই অভিনেতা। জীবনের নানা স্মৃতি জড়িয়ে থাকা সেই রাজশাহীতেই আজ তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন।
ঢাকা থেকে তাঁর মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ইতোমধ্যে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়েছে। যে শহর প্রথম তাঁকে চিনিয়েছিল, সেখানেই হবে তাঁর শেষ ঠিকানা। বৃহস্পতিবার বাদ জোহর রাজশাহী নগরের ঝাউতলা এলাকার মিঠুর মোড়ে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নগরের হেতেম খাঁ গোরস্থানে দাফন করা হবে তাকে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ভাই ও সাংবাদিক রাশেদ রিপন। তিনি জানান, সকালেই মরদেহ সিরাজগঞ্জে পৌঁছেছে এবং সেখান থেকে রাজশাহীর পথে রয়েছে। বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যরাও দেশে ফিরে এখন রাজশাহীর উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শামস সুমন।

৬১ বছর বয়সী এই অভিনেতার প্রথম জানাজা বুধবার সকালে রাজধানীর চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সহকর্মী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই উপস্থিত হয়ে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতির পর রাজশাহীতে দ্বিতীয় জানাজার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে শামস সুমন অসংখ্য নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘অহংকার’, ‘অনুরাগ’, ‘যদি ভালোবাসো’, ‘এই তো আমাদের বাড়ি’, ‘রাতের অতিথি’, ‘অতন্দ্র প্রহর’ ও ‘খোঁজ’। পাশাপাশি ‘জয়যাত্রা’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘আয়না কাহিনি’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’, ‘চোখের দেখা’ ও ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। নির্মাতা শহিদুল ইসলাম খোকনের ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
এসকে/এসএন