© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হাদিসের আলোকে জুমার দিনে আগেভাগে মসজিদে উপস্থিত হওয়ার গুরুত্ব

শেয়ার করুন:
হাদিসের আলোকে জুমার দিনে আগেভাগে মসজিদে উপস্থিত হওয়ার গুরুত্ব

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:১৪ এএম | ২০ মার্চ, ২০২৬
এমনিতেই রমজানের শেষ প্রান্তে এসে মুমিনের হৃদয় এক বিশেষ আবেগে ভরে ওঠে। বিদায়ের বেদনা আর ক্ষমা লাভের আকাঙ্ক্ষা একসাথে নাড়া দেয় অন্তরকে। আর এই প্রেক্ষাপটটি যদি ঘটে পবিত্র জুমাতুল বিদা বা রমজানের শেষ জুমুয়া বারে; তাহলে তো কোনো কথাই নেই। আজ চলতেছি সেই দিন।

যেই দিন রমজানেরও শেষ দিন আবারও পবিত্র জুমাতুল বিদাও আজ। এ দিনটি যেন সারা মাসের ইবাদতের সারাংশকে একত্রে ধারণ করে। তাই মুমিন চেষ্টা করা উচিত এই দিনের প্রতিটি মুহূর্তকে যেনো অর্থবহ করে তুলতে পারে। বিশেষত জুমাুয়ার সালাতে আগেভাগে উপস্থিত হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে।

এই গুরুত্ব ও ফজিলতকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে নিম্নোক্ত হাদিসটি—

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَأَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّانِيَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَقَرَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّالِثَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ كَبْشًا أَقْرَنَ وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الرَّابِعَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ دَجَاجَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الْخَامِسَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَيْضَةً فَإِذَا خَرَجَ الْإِمَامُ حَضَرَتْ الْمَلَائِكَةُ يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ.

আবূ হুরাইরাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসsল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুয়ার দিন জানাবাত গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং সালাতের জন্য আগমন করে সে যেন একটি উট কোরবানী করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে সে যেন একটি গাভী কোরবানী করল। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কোরবানী করল।

চতুর্থ পর্যায়ে আগমন করল সে যেন একটি মুরগী কোরবানী করল। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি ডিম কোরবানী করল। পরে ইমাম যখন খুৎবা দেয়ার জন্য বের হন তখন মালাইকাহ যিকির শ্রবণের জন্য উপস্থিত হয়ে থাকে। (বুখারি, হাদিস: ৮৮১)

এই হাদিসটি মূলত জুমুয়ার দিনে আগেভাগে মসজিদে উপস্থিত হওয়ার গুরুত্বকে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ভাষায় তুলে ধরেছে। এখানে সময়ের স্তরভেদে আগমনের ফজিলতকে কোরবানির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা আরব সমাজে সবচেয়ে মূল্যবান ইবাদতগুলোর একটি ছিল।

অর্থাৎ, যে ব্যক্তি যত আগে আসে, তার আমলের মর্যাদা তত বেশি বৃদ্ধি পায়।

হাদিসের শেষাংশে বলা হয়েছে, যখন ইমাম খুতবার জন্য বের হন, তখন ফেরেশতারা তাদের নথি বন্ধ করে খুতবা শ্রবণে মনোনিবেশ করেন। এতে বোঝা যায়, খুতবা শুধু আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়; বরং এটি এমন এক ইবাদত, যা মনোযোগ দিয়ে শোনা অপরিহার্য। যে ব্যক্তি দেরিতে আসে, সে শুধু আগমনের ফজিলত থেকেই বঞ্চিত হয় না; বরং ফেরেশতাদের সেই বিশেষ তালিকায়ও তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয় না।

জুমাতুল বিদার মতো মহিমান্বিত দিনে এই শিক্ষা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ইবাদতের মূল্য কেবল তার সম্পাদনে নয়, বরং তার প্রতি আগ্রহ, প্রস্তুতি এবং সময়ানুবর্তিতার মধ্যেও নিহিত। তাই এই দিনটি হওয়া উচিত এমন এক উপলক্ষ, যেখানে আমরা দুনিয়াবি ব্যস্ততাকে পেছনে ফেলে, আগেভাগে মসজিদে উপস্থিত হয়ে আল্লাহর দরবারে নিজেদের সর্বোত্তম রূপে পেশ করি।

এসকে/টিকে

মন্তব্য করুন