© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ঈদ উদযাপনে অমর সেই সঙ্গীত ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’-এর ইতিহাস

শেয়ার করুন:
ঈদ উদযাপনে অমর সেই সঙ্গীত ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’-এর ইতিহাস

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:১৫ পিএম | ২০ মার্চ, ২০২৬
রোজার শেষ বিকেলে বাংলার আকাশে চাঁদ উঠলেই এখনও যে গানটি অগণিত মানুষের কণ্ঠে ফিরে আসে, সেটি হলো ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু ঈদের আবহে এই গান যেন এখনও একই আবেগে জড়িয়ে রাখে বাংলার ঘর, উঠান আর পথঘাট।

এই অমর গানের জন্ম কিন্তু সহজ ছিল না। এর পেছনে ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষা, সংশয় আর এক শিল্পীর অবিচল ইচ্ছাশক্তি। সেই সময় বাংলা গানের জগতে শ্যামাসংগীতের প্রভাব প্রবল। ঠিক তখনই আব্বাসউদ্দীন আহমদ মনে করেছিলেন, বাংলায় ইসলামি আবেগের গানও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারে। সেই বিশ্বাস নিয়েই তিনি যান কাজী নজরুল ইসলাম-এর কাছে।

নজরুল রাজি হয়েছিলেন, কিন্তু বাধা এসেছিল রেকর্ড কোম্পানির দিক থেকে। তখনকার কর্তারা মনে করেছিলেন, এমন গান বাজারে সাড়া ফেলবে না। মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে আব্বাসউদ্দীনকে। প্রায় ছয় মাস ধরে বারবার অনুরোধ করেও অনুমতি মেলেনি।



অবশেষে একদিন সুযোগ আসে। সামান্য চা আর পান নিয়ে নজরুলের ঘরে হাজির হন আব্বাসউদ্দীন। অল্প সময়ের মধ্যেই নজরুল লিখে ফেলেন সেই গান, যা পরে ঈদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই রেকর্ডিংয়ের প্রস্তুতি শেষ হয়।

রেকর্ডিংয়ের সময়ও ছিল অনিশ্চয়তা। গানটি তখনও পুরোপুরি মুখস্থ হয়নি আব্বাসউদ্দীনের। নজরুল নিজে হারমোনিয়ামের পাশে দাঁড়িয়ে কাগজ ধরে রেখেছিলেন, যেন গায়ক স্বচ্ছন্দে গাইতে পারেন। সুর, উচ্চারণ, আবেগ সবকিছু নিজে দেখিয়ে দিয়েছিলেন কবি।

ঈদের আগে গানটি বাজারে আসে। তারপর ছুটিতে বাড়ি যান আব্বাসউদ্দীন। ফিরে এসে তিনি বিস্ময়ে দেখেন, ট্রামে, মাঠে, পথের ধারে অপরিচিত মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে তাঁর গাওয়া সেই গান।

সেই মুহূর্ত থেকেই গানটি কেবল একটি রেকর্ড ছিল না, হয়ে ওঠে বাঙালির ঈদের আবেগের অংশ। আজও ঈদের চাঁদ দেখা দিলে এই গান ছাড়া উৎসবের অনুভূতি যেন পূর্ণতা পায় না।

পিআর/এসএন

মন্তব্য করুন