এখন শূন্যতার মাঝেও খুঁজি নতুন আশ্রয়: পিয়া জান্নাতুল
ছবি: সংগৃহীত
০৩:০২ পিএম | ২১ মার্চ, ২০২৬
ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। আর এই ঈদের আনন্দ ছোট-বড় নির্বিশেষে সবার মাঝেই ছড়িয়ে যায়। ব্যতিক্রম নেই তারকাদের ক্ষেত্রেও। সাধারণ মানুষের মতোই আয়োজন করে ঈদ উৎসব পালন করেন তারা। তবে এবার ঈদটিা অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুলের জন্য কিছুটা বিষাদের। কারণ এবারই প্রথম বাবাকে ছাড়া ঈদ করতে হচ্ছে তাকে।
পিয়া জান্নাতুল দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রায় ৯ মাস হলো বাবা নেই। এ বছর ঈদ কাটবে বাবাকে ছাড়া। ভাবতেই পারছি না। ঈদ এলেই বাবা-মার সান্নিধ্যে কাটানো ছোটবেলার দিনগুলো খুব মনে পড়ে। বাবা যখন ছিলেন তখন ঈদ মানেই ছিল মা-বাবার সান্নিধ্য, আত্মীয়-স্বজনের ভিড়।’
তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন সকালে ঘুমিয়ে থাকতাম। বাবা নামাজ পড়ে এসে আমাকে ডেকে তুলতেন। ঘুম থেকে উঠেই বাবা-চাচার কোলাকুলি দেখতাম। মা ভালো পায়েস রান্না করতে পারেন। তাঁর হাতের পায়েস দিয়ে ঈদের দিনের খাওয়া শুরু হতো।’
তিনি বলেন, ‘কখনো চাঁদ রাতে আবার কখনো ঈদের দিন সকালে হাতে মেহেদি লাগতাম। নতুন জামাকাপড় পরে সবার সঙ্গে এক টেবিলে খেতে বসতাম। খুব জমজমাট থাকত ঈদের দিনটি।’

এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার দাদা দাদিকে হারিয়েছি অনেক আগেই। বাবাও নেই। ঈদের আনন্দ এখন তাই কমে গেছে। বাবা চলে যাওয়ার পর থেকে ঈদ আনন্দের চিত্রটাই বদলে গেছে। এখন আর সেইভাবে কোথাও যাওয়া হয় না। আমি একটা বিষয় খুব গভীরভাবে বুঝেছি, বাবাকে ছাড়া ঈদ করা সত্যিই কঠিন।’
‘আমার টিভি অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে নতুন গান–সবকিছু নিয়ে বাবার আলাদা উচ্ছ্বাস ছিল। এখন সেই উচ্ছ্বাসটা কোথাও খুঁজে পাই না। ঈদের দিন সকালে বাবার ফোন কলটা সবচেয়ে বেশি মিস করি। তিনি সবসময় আগে ফোন করে দোয়া দিতেন। এখন সেই ফোনটা আর আসে না। এই শূন্যতাটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন’ যোগ করেন অভিনেত্রী।
পিয়া জান্নাতুলের ভাষায়, ‘শূন্যতার মাঝেও খুঁজি নতুন আশ্রয়। এখন আমার স্বামী-সন্তানই আমার পৃথিবী। ওদের হাসিতেই নিজের আনন্দ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করি। আমি বিশ্বাস করি, জীবন থেমে থাকে না, নতুন করে মানিয়ে নিতে হয়। ঈদে ঢাকাই থাকি। বারো বছর পর এবার খুলনায় ঈদ করতে এসেছি। মা, স্বামী-সন্তান, আত্মীয়স্বজনদের নিয়েই ঈদ উদযাপন করব। অনেক আগ থেকেই এ পরিকল্পনা ছিল।
এসকে/এসএন