রান্নাঘরের বর্জ্য থেকেই বানাতে পারেন জৈব সার
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৩৬ এএম | ২৪ মার্চ, ২০২৬
ফুল, ফলের গাছ লাগিয়েছেন। ছাদজুড়ে বাগানও করেছেন। কিন্তু সেই গাছের পরিচর্যায় কোন সার দেবেন? বাগানপ্রেমীরা অনেকেই প্রকৃতি এবং পরিবেশের স্বার্থে এখন জৈব সারে ভরসা করেন। রাসায়নিক সার বাদ দিয়ে হাতের কাছে থাকা উপকরণ দিয়ে সহজেই বানিয়ে ফেলতে পারেন এই সার।
প্রতিদিনের রান্নাঘরের বর্জ্য আর ফেলে দিতে হবে না, এবার সেই উচ্ছিষ্ট দিয়েই তৈরি করা যাবে জৈব সার। এতে যেমন ভাল থাকে গাছ, তেমনই পরিবেশও থাকে পরিষ্কার।
গাছের বেড়ে ওঠার জন্য দরকার বিভিন্ন পুষ্টি। যেমন নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম।
মজার বিষয় হলো, এসব পুষ্টি আমাদের রান্নাঘরের ফেলে দেওয়া জিনিসেই লুকিয়ে থাকে। তাই রাসায়নিক সারের বদলে প্রাকৃতিক সার ব্যবহার করলে গাছ আরো স্বাস্থ্যবান হয় এবং মাটির গুণও নষ্ট হয় না।
সবচেয়ে সহজ উপায় হলো কম্পোস্ট বানানো। বাড়ির একটা কোণে বা টবের মধ্যে সবজি ও ফলের খোসা, চায়ের পাতা, কফির গুঁড়ো জমিয়ে রাখুন।
মাঝে মাঝে একটু মাটি দিয়ে ঢেকে দিন। কয়েক সপ্তাহ পরে এগুলো পচে কালচে, নরম সারে পরিণত হবে। এই সার গাছের জন্য খুবই উপকারী।
এ ছাড়া আলাদা করে কিছু জিনিস সরাসরি ব্যবহার করা যায়। যেমন-
কলার খোসা : এতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে।খোসা ছোট করে কেটে মাটিতে পুঁতে দিন। এতে গাছে ফুল ও ফল বেশি ধরে।
ডিমের খোসা : এতে ক্যালসিয়াম থাকে, যা গাছকে শক্ত করে। খোসা শুকিয়ে গুঁড়ো করে মাটিতে মিশিয়ে দিন।
চালের মাড় : ভাতের মাড় ফেলে না দিয়ে ঠাণ্ডা করে গাছে দিন। এতে গাছ বাড়তে সাহায্য পায়।
কফির গুঁড়ো : এটি মাটিতে মিশিয়ে দিলে গাছের পাতা সবুজ ও সতেজ হয়।
পেঁয়াজের খোসা : এক বালতি জলে খোসা ভিজিয়ে রেখে সেই জল গাছে দিলে গাছ ভাল থাকে এবং ফুল ধরতে সাহায্য করে।
তবে এ ক্ষেত্রে কিছু জিনিস ব্যবহার না করাই ভাল। যেমন তেল-মসলাযুক্ত খাবারের বর্জ্য, মাছ-মাংসের অংশ বা খুব নোনতা জিনিস। এগুলো দিলে মাটি খারাপ হতে পারে এবং পোকা বা দুর্গন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রান্নাঘরের বর্জ্য দিয়ে সার তৈরি করা খুব সহজ, সস্তা এবং উপকারী একটি উপায়। এতে যেমন গাছ ভাল থাকে, তেমনই আবর্জনাও কমে। প্রতিদিনের ছোট এই অভ্যাস আপনার বাগানকে আরো সবুজ ও সুন্দর করে তুলতে পারে।
পিআর/টিকে