© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মার্কিন-ইরান যুদ্ধের কূটনীতিতে হঠাৎ কেন্দ্রবিন্দুতে কেন পাকিস্তান?

শেয়ার করুন:
মার্কিন-ইরান যুদ্ধের কূটনীতিতে হঠাৎ কেন্দ্রবিন্দুতে কেন পাকিস্তান?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:২৯ পিএম | ২৪ মার্চ, ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানোর পর কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে পাকিস্তানের নামও বার বার উঠে আসছে।

পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে শুধু শুধু যে আলোচনা হচ্ছে না, তা নয়। একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত পাকিস্তানের সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের কারণেই সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিষয়টি সামনে এসেছে।

গত সপ্তাহে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান সংঘাতে ইসলামাবাদ সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছে।

এই প্রতিবেদনগুলো অনুসারে, পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পসহ ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন এবং সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা কমাতে ইসলামাবাদের সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে।

কিছু সূত্র থেকে জানা যায় যে, পক্ষগুলো কূটনৈতিক পথে আগানোর কথা ভাবলে বা প্রস্তুত থাকলে পাকিস্তান ইসলামাবাদে আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে।

তবে, ওয়াশিংটন-ভিত্তিক বিশিষ্ট গবেষক ভালি নাসর যুক্তি দেন যে, সৌদি আরবকে বাদ দিয়ে পাকিস্তানের কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়ার সম্ভাবনা কম।

‘সৌদি সমর্থন ও তাগিদ পেলেই কেবল পাকিস্তান এগিয়ে আসবে। রিয়াদ সম্ভবত এই বিষয়ে বেশ ভালোভাবেই জড়িত।’ তিনি এক্স-এ একটি পোস্টে লিখেছেন।

বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন: ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা মোটেই অসম্ভব নয়। গত বছর অনেক উচ্চ-পর্যায়ের পাক-ইরান বৈঠক হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তানকে খুবই পছন্দ করে। ট্রাম্প বলেছেন যে (ফিল্ড মার্শাল আসিম) মুনির ইরানকে বেশিরভাগ মানুষের চেয়ে ভালো চেনেন। এটাও উল্লেখ্য যে, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের কূটনৈতিক স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে।’

অন্যান্য প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, সংঘাত তীব্র হওয়ার সাথে সাথে তুরস্ক ও মিশরের পাশাপাশি পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ওয়াশিংটনে ডনের সাথে কথা বলা মুসলিম কূটনীতিকরা উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তান ও তুরস্ক উভয়েরই ইরানের সাথে সীমান্ত রয়েছে, যা এই সংঘাত থেকে তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইরানের অস্থিতিশীলতা এই দেশগুলোর জন্য কৌশলগত উদ্বেগ হবে এবং এর সরাসরি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক এবং শরণার্থী সংক্রান্ত প্রভাব থাকবে।

মিশরের অবস্থান ভিন্ন হলেও এ ক্ষেত্রে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বৃহত্তম আরব দেশ এবং ইসরাইলের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে এমন অল্প কয়েকটি আঞ্চলিক রাষ্ট্রের অন্যতম হওয়ায়, কায়রো যে বার্তা সহজে পৌঁছে দেবে তা অন্য কোনো দেশের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে।

এদিকে, ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুদ্ধ একটি দীর্ঘস্থায়ী ও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। প্রাথমিক হামলাগুলো এখন ব্যাপকতর সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে, যা আঞ্চলিক পর্যায়ে এর বিস্তারের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। সংঘাত বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ার সাথে সাথে তাই স্বাভাবিকভাবেই বিকল্প পথের দিকে দৃষ্টি সরে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে মধ্যস্থতাকারীদের নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে, তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতাকারীরা আরও মূল্যবান হয়ে ওঠে — বিশেষ করে যাদের উভয় পক্ষের সাথেই কার্যকর সম্পর্ক রয়েছে।

সংক্ষেপে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে, কারণ সংঘাত এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সামরিক আগ্রাসনের ব্যয় ক্রমশ বাড়ছে, অথচ কূটনৈতিক বিকল্পও সীমিত।

সূত্র: ডন

টিজে/এসএন 

মন্তব্য করুন