রমজানের পরে কি জাকাত দেয়া যায়?
ছবি: সংগৃহীত
০৪:২২ পিএম | ২৪ মার্চ, ২০২৬
জাকাত আদায় করা ফরজ। এটি ইসলামের মূল স্তম্ভের অন্যতম। এটি আর্থিক ইবাদত। পবিত্র কোরআনের বহু স্থানে সালাত এবং জাকাতের আদেশ করা হয়েছে। ইমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হলো- নামাজ ও জাকাত।
পবিত্র কোরআনে জাকাতের খাত নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে। এখাত ছাড়া অন্য কোথাও যাকাত প্রদান করা জায়েজ নয়। মহান আল্লাহ বলেন,
اِنَّمَا الصَّدَقٰتُ لِلْفُقَرَآءِ وَ الْمَسٰكِیْنِ وَ الْعٰمِلِیْنَ عَلَیْهَا وَ الْمُؤَلَّفَةِ قُلُوْبُهُمْ وَ فِی الرِّقَابِ وَ الْغٰرِمِیْنَ وَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ ابْنِ السَّبِیْلِ ؕ فَرِیْضَةً مِّنَ اللّٰهِ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ۶۰
অর্থ: জাকাত তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও জাকাতের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য, যাদের মনোরঞ্জন উদ্দেশ্য তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জিহাদকারী ও মুসাফিরের জন্য। এ আল্লাহর বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সুরা তওবা: ৬০)
আমাদের সমাজে জাকাত আদায়ে একটি ভুল প্রচলন রয়েছে। অনেকেই জাকাত দেন রমজান মাসে, বেশি সওয়াবের আশায়। অথচ জাকাত একটি চলমান প্রক্রিয়া।
ইসলামি শরিয়তে, আপনার অ্যাকাউন্টে যে টাকা আছে, আজকে যদি তার এক বছর পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে আজকেই জাকাত দিতে হবে। সম্পদ হাতে পাওয়ার পর এক বছর যখন পূর্ণ হবে, তখনই আপনাকে জাকাতের অঙ্ক কষতে হবে, সেটা যে মাসেই পড়ুক, যে সপ্তাহেই পড়ুক, যে দিনেই পড়ুক।
আমাদের সমাজে একটা প্রচলন হয়ে গেছে, যারা জাকাত দেন, তারা রমজান মাসেই জাকাত দেন, রমজানে বেশি ফজিলত লাভের আশায়।
কিন্তু এ বিষয়ে ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেছেন, জাকাত যদি রমজানের আগের মাস অর্থাৎ শাবান মাসে ফরজ হয়, তাহলে রমজানের ফজিলত পাওয়ার আশায় সে জাকাত ধরে রাখা যাবে না। কারণ এটা গরিবের অধিকার, গরিবের হক। যত দ্রুত সম্ভব, নিজ দায়িত্বে তাদের কাছে এই টাকা পৌঁছে দিতে হবে।
আর যদি রমজানের পরের মাসে অর্থাৎ শাওয়াল মাসে জাকাত ফরজ হয়, সেক্ষেত্রে রমজানের ফজিলত লাভের আশায় যদি এক মাস আগে জাকাত আদায় করে দিতে চান, দিতে পারবেন।
অর্থাৎ আগে দেওয়া যাবে, কিন্তু পরে নয়। যেমন ধরে নেই, এক বছর পূর্ণ হয়ে গিয়েছে শাবান মাসের ২৭ তারিখে, সেক্ষেত্রে রমজান মাত্র দুদিন দেরিতে হলেও আপনি জাকাত আদায়ে এই দুদিনও দেরি করতেও পারবেন না। এটাই হলো জাকাতের মাহাত্ম্য।
টিজে/এসএন