© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ডিবি পরিচয়ে ছাত্রদল নেতার বাসায় ডাকাতি

শেয়ার করুন:
ডিবি পরিচয়ে ছাত্রদল নেতার বাসায় ডাকাতি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৪৯ পিএম | ২৫ মার্চ, ২০২৬
কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটখোলা পাড়ায় ডিবি পুলিশের পরিচয়ে ছাত্রদল নেতা নাজমুল হুদা শাহেদের বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) ভোররাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শাহেদ কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব। 

ভুক্তভোগী শাহেদের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আনুমানিক ৮-১০ জনের একটি দল প্রথমে বাড়ির প্রধান দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে বাসায় মাদক রয়েছে দাবি করে তল্লাশির কথা বলে। একপর্যায়ে আলমারি ভেঙে নগদ টাকা নিতে চাইলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় ডাকাতরা গ্রেফতারের ভয় দেখায়।

পরে তারা বাড়ি থেকে আনুমানিক ৩ লাখ টাকা, কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। যাওয়ার সময় বাড়ির সদস্যদের একটি কক্ষে আটকে রেখে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে করে পালিয়ে যায় তারা। পরবর্তীতে বাড়ির সামনের একটি পুকুর পাড় থেকে মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করেন।

নাজমুল হুদা শাহেদ জানান, ছাত্রদল নেতা খোরশেদ আলম হত্যার খবর শুনে তিনি শহরে অবস্থান করছিলেন। ভোরে পরিবারের সদস্যদের ফোন পেয়ে তিনি ডাকাতির বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাড়িই যেখানে নিরাপদ নয়, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটুকু-তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।’  তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সবার নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।

খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সুবেদার (অব) আবদুল মাবুদ কালের কন্ঠকে বলেন, ঈদের একদিন আগেও ওই ইউনিয়নের তেতৈয়া নামক এলাকায় পুলিশের পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই এলাকায় এরকম ভয়াল ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে বলে জানান তিনি।
 
এদিকে চলতি মাসে কক্সবাজার শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকায়ও একই কৌশলে আরও একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনায় ডাকাতরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে তল্লাশির নামে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ ঘটনার পরপরই কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।  এ বিষয়ে তাকে জানানো হয়নি বলে দেশের একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদূত মজুমদার। এতে কক্সবাজার সদর মডেল থানা ও জেলা পুলিশের মধ্যে সমন্বয়হীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরআই/এসএন

মন্তব্য করুন