© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

তুরস্কে আন্তর্জাতিক আয়োজনে কী বার্তা দিলেন পরিবেশমন্ত্রী?

শেয়ার করুন:
তুরস্কে আন্তর্জাতিক আয়োজনে কী বার্তা দিলেন পরিবেশমন্ত্রী?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:১২ পিএম | ০৯ মে, ২০২৬
তুরস্কের আন্তালিয়ায় আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ সামনে রেখে ‘টার্কিস রোড টু কপ-৩১: রেজিলিয়েন্ট সিটিস’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী (৮ ও ৯ মে) আন্তর্জাতিক আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু তুরস্কের হাতায় মিউজিয়াম হোটেলে আন্তর্জাতিক এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক আয়োজনে বিভিন্ন দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুরাত কুরুম বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দুর্যোগ সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরবর্তীকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকের শুরুতে মুরত কুরুম ‘কপ-৩১ সম্মেলন ও হাতায় ঘোষণাকে’ সামনে রেখে বাংলাদেশের মতামত ও পরামর্শ কামনা করে বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃতুল্য দেশ হিসেবে পরিচিত।

তুরস্কের পরিবেশমন্ত্রী আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের পরিবেশমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, আগামী কপ-৩১ সম্মেলনে তুরস্ক বাংলাদেশের পরিবেশ উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু তুরস্কে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, লাখের বেশি বাংলাদেশি বর্তমানে তুরস্কে বসবাস করছেন এবং বাংলাদেশিরা তুরস্কের জনগণকে বন্ধুত্বপূর্ণ জাতি হিসেবে মনে করেন।

আবদুল আউয়াল মিন্টু আরও বলেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে মাত্র শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম। বন উজাড়, দ্রুত নগরায়ণ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে দেশের পরিবেশ ও জনজীবন ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী বৈশ্বিক আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনে একটি বিশেষ এজেন্ডা উপস্থাপন করবে, যাতে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও অর্থায়ন নিশ্চিত করা যায়।

পরিবেশমন্ত্রী আরও জানান, কপ-৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে ফোকাল পার্সন নিয়োগ দেয়া হবে। তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান, জলবায়ু ঝুঁকি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়গুলো কার্যকরভাবে তুলে ধরবেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ন্যায্য অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরবর্তীকালে প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশের পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গাম্বিয়ার মন্ত্রী রোহে জন মানজাং, সিরিয়ার মন্ত্রী মোহাম্মদ আঞ্জরানি, তুরস্কে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর হামবার্তো লোপেজ এবং ইলব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার এয়ুপ কারাহান।

এক প্রশ্নের জবাবে মিন্টু জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো ও নগর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অর্থায়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে তুলনামূলকভাবে কম অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জলবায়ু তহবিলের কার্যকর ব্যবস্থা ও দ্রুত অর্থ ছাড় অত্যন্ত জরুরি।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের রিসোর্স আছে। এখন তহবিল প্রদানের পাশাপাশি জলবায়ুসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং দক্ষতা উন্নয়নে কারিগরি সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম দিনের শেষ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে দুই দেশের মন্ত্রীর মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মালদ্বীপের জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী আলী শরীফ মালদ্বীপে আগামী দিনে ৫০ লাখ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন, বিশেষ করে চারা উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ক্ষেত্রে।


ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন