যুক্তরাজ্যের বিমানবাহী রণতরীকে ‘খেলনা’ আখ্যা ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৪৬ এএম | ২৭ মার্চ, ২০২৬
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোসহ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ভালো সময় যাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্রের। ইরানে হামলার জন্য ট্রাম্প বারবার আহ্বান জানালেও সাড়া দিচ্ছে না তারা। এর জেরে ন্যাটোর ওপর বেশ চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এবার তো যুক্তরাজ্যের বিমানবাহী রণতরীকে খেলনা বলে উপহাস করলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে যুক্তরাজ্যকে উদ্দেশে করে তিনি বলেছেন, “আমাদের সেটি (রণতরী) লাগবে না, বিরক্ত হয়ো না।” খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
প্রতিবেদনে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, তিনি যুক্তরাজ্যের কাছে দুটি বিমানবাহী রণতরী চেয়েছিলেন। তবে, কেইর স্টারমার প্রথমে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং পরে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। তবে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এমন কোনও অনুরোধ করা হয়েছে এমনটি স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটি করেনি।
এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক হামলার জন্য যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। তবে, দিয়াগো গার্সিয়াসহ কিছু ঘাঁটি ইরানের পাল্টা হামলা মোকাবিলার জন্য প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে ব্যবহার করা যেতে পারে।
সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের রাফ ঘাঁটির দিকে লেবানন থেকে ইরানের তৈরি একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এরপরই যুক্তরাজ্য ‘এইচএমএস ড্রাগন’ নামের যুদ্ধজাহাজ পূর্ব ভূমধ্যসাগরে পাঠিয়েছে।
এমনকি, ব্রিটিশ কর্মকর্তারা হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে একটি রয়েল নেভির জাহাজ বা বেসামরিক জাহাজ মোতায়েন করার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন। এ প্রণালির বন্ধ হয়ে যাওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এই জাহাজটি মাইন অপসারণকারী ড্রোনগুলোর জন্য একটি ‘মাদারশিপ’ হিসেবে কাজ করবে।
ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপে অবস্থিত দিয়াগো গার্সিয়াতে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি রয়েছে। সম্প্রতি, ঘাঁটিটি লক্ষ্য করে দু’টি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে তেহরান। তবে, আঘাত হানার আগে ক্ষেপণাস্ত্র দু’টিকে ধ্বংস করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনাকেও তাচ্ছিল্যভরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাজ্য দীর্ঘমেয়াদী ইজারা চুক্তির মাধ্যমে এ দ্বীপটি মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে। এ চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প সম্প্রতি বেশ কঠোর সমালোচনা করে আসছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “ইরান আড়াই হাজার মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে, তাদের এত দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মত ক্ষেপণাস্ত্র নেই। কিন্তু, তারা এখন সেই বহুল আলোচিত দ্বীপটিকেই লক্ষ্য করে হামলা করেছে, যেটি আমাদের দিতে যুক্তরাজ্য খুবই ভয় পাচ্ছিল। কারণ, তারা এতে জড়িয়ে পড়তে চায়নি। কিন্তু, আমরাও তাদের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চাই না।”
তিনি বলেন, “আমি ন্যাটো মিত্রদের ওপর হতাশ। আসলে তাদের মধ্যে কয়েকজন এমন মন্তব্য করেছে, যুদ্ধ শেষ হলে তারা জড়িত হতে চাই। না, জড়িত হওয়ার কথা যুদ্ধের শুরুতেই, এমনকি শুরু হওয়ার আগেই।”
ট্রাম্প বলেন, “আমরা যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে শুনেছি- এটা তিন সপ্তাহ আগের কথা- ‘আমরা আমাদের বিমানবাহী রণতরী পাঠাবো, যেগুলো আবার খুব ভালো মানের নয়।’ আমাদের যেগুলো আছে, সেগুলোর তুলনায় এগুলো খেলনার মতো। তারা আমরা যুদ্ধ শেষ হলে বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর কথা বলেছে। আমি তাদের বলে দিয়েছি, অনেক ধন্যবাদ। বিরক্ত হওয়ার দরকার নেই। আমাদের এটা দরকার নেই।”
এখন সবাই সাহায্য করতে চায় জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “যখন তারা ধ্বংস হয়ে গেছে, অন্য পক্ষও ধ্বংস হয়ে গেছে, তখন তারা বলছে, আমরা জাহাজ পাঠাতে খুবই আগ্রহী।”
চলতি সপ্তাহের শুরুতে স্টারমার সংসদ সদস্যদের একটি কমিটিকে জানান, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বারবার করা অপমানজনক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে চান না। গত এর সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়বারের মত রাষ্ট্রীয় সফরের যুক্তরাজ্যে যান ট্রাম্প। এরপর থেকে তাদের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে।
পশ্চিমা সামরিক জোট নিয়ে কোনোভাবেই খুশি নন ট্রাম্প। নিজের প্রথম মেয়াদেও এ জোট থেকে বের হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয়বার মসদনে বসার পরও জোটটির দিকে তীর্যকভাবে কথা বলেছেন এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোকে ‘ভীতু’ ও কাগুজে বাঘ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন তিনি।
এসকে/টিএ