ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দকৃত অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪৭ এএম | ২৭ মার্চ, ২০২৬
পেন্টাগন ইউক্রেনের জন্য নির্ধারিত সামরিক সহায়তা মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান সম্প্রসারিত হওয়ার প্রেক্ষাপটেই এমন পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এদিকে রাশিয়ার তীব্র বিমান ও ড্রোন হামলার মুখে জরুরি ভিত্তিতে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহে সম্ভাব্য বিলম্ব নিয়ে কিয়েভে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ২৩ থেকে ২৪ মার্চের মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনে প্রায় এক হাজার ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্যতম বৃহৎ বিমান হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'প্রায়োরিটাইজড ইউক্রেন রিকয়ারমেন্টস লিস্ট' (PURL) কর্মসূচির আওতায় অর্ডার করা আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এ সম্ভাব্য স্থানান্তরের তালিকায় রয়েছে। উল্লেখ্য, এ কর্মসূচির মাধ্যমেই ন্যাটোর অন্যান্য সদস্য দেশ ইউক্রেনের জন্য মার্কিন অস্ত্র কেনার অর্থায়ন করে থাকে। এ বিষয়ে একজন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা তাদের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তবে ন্যাটো মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট ইউরোপিয়ান প্রাভদাকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, পিইউআরএল এর মাধ্যমে মিত্ররা যেসব সরঞ্জামের অর্থায়ন করেছে, তার সবই ইউক্রেনে সরবরাহ করা হয়েছে বা বর্তমানে সরবরাহের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
২৬ মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ত্র স্থানান্তরের এই জল্পনাকে বেশ স্বাভাবিক বিষয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা প্রায়ই এমনটা করি। আমাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে গোলাবারুদ রয়েছে। মাঝে মাঝে আমরা এক দেশেরটা নিয়ে অন্য দেশের জন্য ব্যবহার করি।
পূর্ববর্তী বাইডেন প্রশাসনের মতো ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে সহায়তা দিয়ে আসছে। এর আগেও কিয়েভকে রাশিয়ার সাথে শান্তি আলোচনায় বসতে চাপ দেওয়ার কৌশল হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক সহায়তা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলোও আশঙ্কা প্রকাশ করছে। তাদের ভয়, এই ব্যাপক ব্যবহারের ফলে তাদের নিজস্ব অর্ডারে বিলম্ব হতে পারে এবং পিইউআরএল কর্মসূচির আওতায় ইউক্রেনে মার্কিন সিস্টেম সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। যদি পিইউআরএল কর্মসূচির মাধ্যমেও সহায়তা স্থগিত করা হয়, তবে এটি হবে এ কর্মসূচির আওতায় প্রথম কোনো স্থগিতাদেশ। তবে পেন্টাগনের এই সরঞ্জাম স্থানান্তরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।
তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
এমআই/এসএন