© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইরানে স্থল অভিযানের বিষয়ে কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র?

শেয়ার করুন:
ইরানে স্থল অভিযানের বিষয়ে কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৩৫ পিএম | ২৯ মার্চ, ২০২৬
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন স্থল সেনাদের জন্য ‘অপেক্ষা’ করছে ইরানি বাহিনী। পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহের স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি ওই মন্তব্য করেছেন।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানে অনুমোদন দেবেন কি না, সেটি এখনও পরিষ্কার নয়। ইরানে স্থল অভিযান নিয়ে মার্কিন প্রশাসন যা বলছে...

চলতি মাসের শুরুর দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‌‌‘‘আমি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছি না। তবে তিনি বলেছেন, যদি পাঠাতামও তাহলে নিশ্চিতভাবেই আমি আপনাদের তা জানাতাম না।’’

শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, ইরানে কোনও স্থল সেনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে বিকল্প পথ খোলা রাখার জন্য সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। রুবিও বলেন, ‘‘যেকোনও পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রেসিডেন্টকে সর্বোচ্চ সুযোগ দেওয়ার জন্য আমরা সবসময় প্রস্তুত থাকব।’’

শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ ওই অঞ্চলে পৌঁছেছে। এছাড়া দেশটির নৌবাহিনীর প্রায় সাড়ে ৩ হাজার সৈন্য ও মেরিন সেনার একটি ইউনিটের নেতৃত্ব দিচ্ছে এই রণতরী।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, শত্রুপক্ষ জনসমক্ষে আলোচনার সংকেত দিচ্ছে অথচ গোপনে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার জল্পনা-কল্পনার মাঝে ইরানি কর্মকর্তাদের এমন গভীর অবিশ্বাস প্রকাশের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। নেপথ্যে কী ঘটছে তা বিস্তারিত জানা না গেলেও একটি বিষয় স্পষ্ট। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ইরানের নীতি মূলত পশ্চিমা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক প্রভাবের বিরোধিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে; যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে প্রধান শত্রু হিসেবে গণ্য করে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তৃতীয় দফা পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার ঠিক দুই দিন পর শুরু হয়।

গত গ্রীষ্মেও যখন দুই দেশ পারমাণবিক আলোচনায় লিপ্ত ছিল, ঠিক তখনই ইরানের ওপর হামলা শুরু হয়েছিল। এর ফলে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করে।

২০১৫ সালের চুক্তি থেকে ট্রাম্প সরে যাওয়ার পর যেকোনও নতুন চুক্তিকে মার্কিন বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন ইরানি কর্মকর্তারা। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের সেই সংশয় আরও ঘনীভূত হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন