© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইরানের ‘সময় শেষ’, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না: ট্রাম্প

শেয়ার করুন:
ইরানের ‘সময় শেষ’, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৫৮ এএম | ১৮ মে, ২০২৬
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ইরান যদি অবিলম্বে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ না নেয়, তবে দেশটির আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না বলে সরাসরি ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১৭ মে) তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি তেহরানকে এই আলটিমেটাম দেন।

ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ও হুঁশিয়ারিমূলক ভাষায় লিখেছেন, ‘ইরানের সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। তাদের খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা না হলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। এখন প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান!’ ট্রাম্পের এই বার্তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়াকে এক ধাক্কায় খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে।

এর আগে গত ১১ মে এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিদ্যমান সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি বর্তমানে কার্যত ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া শান্তি চুক্তির প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের পক্ষ থেকে যে সংশোধনী বা জবাব দেওয়া হয়েছিল, তাকে ট্রাম্প অত্যন্ত অপমানজনকভাবে ‘স্টুপিড’ (নির্বোধের মতো) বলে আখ্যা দেন। মূলত তখন থেকেই দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হতে শুরু করে। তেহরান মার্কিন প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো মানতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্প প্রশাসন এখন যেকোনো সময় বড় ধরনের সামরিক অ্যাকশনে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কূটনৈতিক এই অচলাবস্থার মাঝেই আজ রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত কৌশলগত ‘বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে’ একটি রহস্যময় ও বিধ্বংসী ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলার পরপরই ট্রাম্পের এমন কঠোরতম হুমকি আসায় আন্তর্জাতিক সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘কিছুই অবশিষ্ট না রাখার’ এই প্রকাশ্য হুমকি- সব মিলিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও একটি প্রাণঘাতী ও সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তীব্রতর হয়েছে; যা বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন