ডিসমিসল্যাবের প্রতিবেদন: হামের টিকা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সঠিক নয়
ছবি: সংগৃহীত
০৩:১১ পিএম | ৩০ মার্চ, ২০২৬
গত ৮ বছর দেশে হামের টিকা দেওয়া হয়নি—স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের এই বক্তব্য সঠিক নয় বলে দাবি করেছে ফ্যাক্ট চেকিং ও গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব।
আজ সোমবার নিজেদের ফেসবুক পেজে এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেয় ডিসমিসল্যাব। পোস্টে ইউনিসেফের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ভুল।
পোস্টে ডিসমিসল্যাব লিখেছে, গত ২৯ মার্চ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেছেন, “মিজেলসের (হাম) রোগী অনেক বেড়েছে। আট বৎসর আগে মিজেলসের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এরপর আর এই ভ্যাকসিন কোনো গভমেন্ট দেয় নাই। আমরা কিন্তু এর মধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। পারচেজ কমিটি পাস হয়েছে।”
তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ইউনিসেফের ওয়েবসাইটে ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হামের টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশে।
এছাড়া, ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর দেশের এক গণমাধ্যমে প্রকাশিত “হামের রেড জোন কক্সবাজারে টিকা পাচ্ছে ৮ লাখ শিশু” শিরোনামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, “…কক্সবাজারকে চিহ্নিত করা হয়েছে হামের রেড জোন হিসেবে। তাই হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২০ সফল করতে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন গতকাল শনিবার শুরু হয়েছে। চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ছয় সপ্তাহ।”
গতকাল রোববার বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক ওষুধ শিল্প মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হামের টিকা প্রসঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
৯ মাস বয়সে শিশুদের হামের টিকার প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। অন্যদিকে ক্যাম্পেইনের সময় ৯ মাস বয়স থেকে ১০ বছরের সব শিশুকে টিকা দেওয়া হয়।
টিকা কর্মসূচির কারণে দেশে হামের প্রকোপ কমে এসেছিল। কিন্তু এ বছর তা নতুন করে বেড়েছে।
চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামের রোগী শনাক্ত হয়। ১০ জানুয়ারি ক্যাম্প এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। ওই সময় রাজধানীর বস্তি এলাকায় হামের রোগী বৃদ্ধি পেতে থাকে।
এসএন