© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘কালারস অব বাংলাদেশ’ থিমে উদযাপিত হলো ‘কমিউনিটি ডিজিটাল স্টোরিটেলিং ফেস্টিভ্যাল’- এর তৃতীয় আসর

শেয়ার করুন:
‘কালারস অব বাংলাদেশ’ থিমে উদযাপিত হলো ‘কমিউনিটি ডিজিটাল স্টোরিটেলিং ফেস্টিভ্যাল’- এর তৃতীয় আসর

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৪০ এএম | ০২ এপ্রিল, ২০২৬
‘কালারস অব বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ১ এপ্রিল বুধবার ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কমিউনিটি ডিজিটাল স্টোরিটেলিং ফেস্টিভ্যাল’ (সিডিএসটিএফ)-এর তৃতীয় আসর। আগের দুই আয়োজনের ধারাবাহিকতায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-এর সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসব আবারও ডিজিটাল গল্পকার ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের প্রাণবন্ত মিলনমেলায় রূপ নেয়।

এবারের উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে আসা একদল অদম্য গল্পকার। প্রতিকূল উপকূলীয় জনপদ থেকে আসা এই তরুণদের জীবনঘনিষ্ঠ ও লড়াকু গল্পগুলো দিয়েই উৎসবের সূচনা হয়, যা মূলত বাংলাদেশের লড়াকু সত্তা এবং উৎসবের মূল থিমকে সার্থকতা দান করেছে।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মানবিক এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. লিজা শারমিনের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে দিনটি শুরু হয়।



উৎসবের অগ্রগতি নিয়ে তিনি বলেন, “তৃতীয় আসরে এসে শিক্ষার্থীদের এই সৃজনশীল গল্প আর তাদের কাজের প্রতি ভালোবাসা দেখা সত্যিই আনন্দের।” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দেশের একটি গণমাধ্যমর সিনিয়র ম্যানেজার ও ডিজিটাল কন্টেন্ট লিড খাইরুল বাবুই এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা সম্পূর্না গাঙ্গুলী।

সাংবাদিকতা, মিডিয়া এবং যোগাযোগ  বিভাগের প্রধান এবং সিডিএসটিএফের প্রধান উপদেষ্টা ড. আফতাব হোসেন উৎসবের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, শুরুর দিন থেকেই এই ফেস্টিভ্যাল মানুষের অকথিত গল্পগুলো সামনে আনার চেষ্টা করছে এবং আগামীতেও এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।



উৎসবের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত প্যানেল ডিসকাশন ও বিশেষ প্রদর্শনী- ‘ক্লাইমেট অ্যাডভোকেসি থ্রু কমিউনিটি স্টোরিটেলিংউইথ কোস্টাল ইউথস’। এই পর্বে ইউএনডিপি বাংলাদেশের কমিউনিকেশন প্রধান মো. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকৃত প্রভাব ফুটিয়ে তুলতে প্রান্তিক গল্পকারদের তৈরি কন্টেন্টগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই অকৃত্রিম কণ্ঠস্বরগুলো বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে সিডিএসটিএফের মতো প্ল্যাটফর্ম অপরিহার্য।” আলোচনায় উপকূলীয় অঞ্চলের জীবনচিত্র ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার বাস্তব অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নিজস্ব গল্পগুলো
বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার গুরুত্ব ব্যক্ত করেন শিবানী মুন্ডা ও মো. আরিফুজ্জামান।

চলচ্চিত্র প্রেমীদের জন্য সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ অংশ ছিল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘দম’ নিয়ে বিশেষ সেশন। যেখানে বিশিষ্ট নির্মাতা রেদওয়ান রনি এবং ‘দম’ চলচ্চিত্রের কলাকুশলীরা দর্শকদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন।



রনি এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বিবর্তনে এই ধরনের উৎসব তরুণ নির্মাতাদের ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করবে। উৎসবের সমাপনী পর্বে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

ওয়ান মিনিট ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে বিজয়ীর মুকুট অর্জন করেছেন শিবানী মুন্ডা, ডালিয়া গায়েন, বিক্রম বর্মন এবং আরিফুল ইসলাম। এছাড়া ‘ডিআইইউ বেস্ট কমিউনিটি ডিজিটাল স্টোরিটেলিং’ ক্যাটাগরিতে তানভীর জাওয়াদ তার ‘দ্য কালারস আই ফিল’ চলচ্চিত্রের জন্য এবং জার্নালিজম ক্যাটাগরিতে শাহরিয়ার উদ্দিন তাওসিফ তার ‘পথে হল দেখা’ নির্মাণের জন্য বিজয়ী হয়েছেন।

ফেস্টিভ্যাল কনভেনার ড. মো. আব্দুল কাবিল খান আয়োজনের সাফল্যে প্রসঙ্গে বলেন, “সিডিএসটিএফ দিন দিন আরও বড় এবং প্রভাবশালী হয়ে উঠছে এবং আমাদের শিক্ষার্থীরাই এই উৎসবের প্রাণ।”

ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত এই উৎসবের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে ছিল দেশের একটি গণমাধ্যম ডটকম এবং সিনেপ্লেক্স পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল স্টার সিনেপ্লেক্স।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন