© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বাজেট নিয়ে ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ / আমাদের লক্ষ্য বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যাওয়া : অর্থমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
আমাদের লক্ষ্য বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যাওয়া : অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৫১ এএম | ০২ এপ্রিল, ২০২৬

অর্থনীতিতে চলমান সংকট, নির্বাচনী ইশতেহারের বাস্তবায়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ-এমন বাস্তবতায় আগামী বাজেট প্রণয়নকেই বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অর্থনীতি চাঙ্গা করতে না পারলে দিনশেষে কর-জিডিপির অনুপাত বাড়ানো খুব কঠিন। তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যাওয়া। আমরা টাকা ছাপাতে চাচ্ছি না; বরং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যালয়ে আসন্ন বাজেট ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নীতিমালার ঘন ঘন পরিবর্তন বন্ধ করার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিনিয়োগকারীরা যেন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারেন, সে জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত নীতি অপরিবর্তিত রাখা হবে। বিনিয়োগের পথ সুগম করতে বড় ধরনের ‘ডিরেগুলেশন’ বা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন মূল লক্ষ্য।”


আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচিত সরকারের সামনে বর্তমানে তিন ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, নতুন সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, দেশের রাজস্ব আদায় তথা কর-জিডিপি খুবই কম।

তৃতীয়ত, এর সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ। এই যুদ্ধ দেশের জন্য একটা বড় সমস্যা। যুদ্ধের কারণে সরকারকে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। বেশি দামে জ্বালানি তেল কিনতে হচ্ছে। কিভাবে সম্পদ আহরণ বৃদ্ধির মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আগামী বাজেট প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য সমাজের বঞ্চিত ও সাধারণ মানুষকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসা। ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো চালু থাকবে। সেই টাকার সংস্থান আগে রেখে বাজেট সাজানো হবে। বাজেটের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের সুবিধার বাইরে রাখা হবে না। তাদের পাওনা নিশ্চিত করেই সামগ্রিক বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশের কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকি নিয়ে অনুসন্ধান হয়েছিল। নতুন সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের অনুসন্ধান চালু রাখার বিষয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শুধু একটা বিষয় নিয়ে নয়; অনুসন্ধানের এমন অনেক বিষয় আছে। সবকিছু পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

এমআই/এসএন  

মন্তব্য করুন