সিলেটে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের ‘অযৌক্তিক’ হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে পেট্রোল পাম্প মালিকদের হুঁশিয়ারি
ছবি: সংগৃহীত
০৭:১৯ পিএম | ০২ এপ্রিল, ২০২৬
বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের এই কঠিন সময়ে সিলেটের সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে প্রশাসনের ‘অযৌক্তিক ও অপেশাদার’ হস্তক্ষেপের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন সিলেট বিভাগ পেট্রোল পাম্প মালিকগণ। তারা জানিয়েছেন, বর্তমান রেশনিং প্রথা ও সরবরাহ সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তেলের সুষম বণ্টন বজায় রাখা হলেও প্রশাসনের কিছু কার্যক্রম জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।
এক বিশেষ বিবৃতিতে সিলেট বিভাগ পেট্রোল পাম্প মালিক পক্ষ তাদের উদ্বেগের কথা জানান।
এলপিজিএ অনার্স অ্যাসোসিয়েশন সেক্রেটারি ও পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি কল্যাণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাদিম রহমান বাংলাদেশ টাইমসকে বিবৃতিটি পাঠিয়ে তিনটি প্রধান সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন।
আন্তঃপাম্প তেল স্থানান্তরে হয়রানি: মালিকপক্ষ জানায়, অনেক মালিকের একাধিক পাম্প রয়েছে। কোনো পাম্পে তেল ফুরিয়ে গেলে জনগণের ভোগান্তি কমাতে তারা নিজস্ব অন্য পাম্প থেকে তেল এনে সরবরাহ সচল রাখেন। এটি কোনো অপরাধ নয় বরং জনস্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ। কিন্তু প্রশাসন বিষয়টিকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে মালিকদের আটক বা জরিমানার ভয় দেখাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
‘ডেড স্টক’ নিয়ে কারিগরি জ্ঞানের অভাব: তেল মজুদের ট্যাংকে কারিগরি কারণেই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল (Dead Stock) রাখা বাধ্যতামূলক। উদাহরণস্বরূপ, ২২ হাজার লিটারের ট্যাংকে ৮০০-১০০০ লিটার তেল অবশিষ্ট থাকলে তা বিক্রি করা সম্ভব নয়, কারণ তলানির ময়লা গ্রাহকের গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি করতে পারে। অভিযোগ উঠেছে যে, অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা এই কারিগরি বিষয়টি না বুঝেই 'তেল মজুদের' অভিযোগে অযথা জরিমানা ও মামলা করছেন।
ব্যবসায়িক অস্তিত্বের সংকট: বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতন এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মেটানোর পর বর্তমান রেশনিং প্রথায় মুনাফা করা প্রায় অসম্ভব। মালিকপক্ষ দাবি করেন, তারা ভর্তুকি দিয়ে সেবা চালু রাখলেও প্রশাসনের ভুল ব্যাখ্যা ও অভিযানের কারণে তারা এখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার অবস্থায় পৌঁছেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সিলেটের জ্বালানি পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও প্রশাসনের এই অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ পরিবেশ নষ্ট করছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আইন ও কারিগরি দিকগুলো বিবেচনা না করে যদি এই হয়রানি বন্ধ না হয়, তবে তাদের পক্ষে পাম্প পরিচালনা করা এবং সেবা প্রদান অব্যাহত রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সিলেটের আপামর জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করে মালিকপক্ষ জানায়, তারা সংঘাত নয় বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চান। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি গ্রহণে তারা বাধ্য হবেন।
ইউটি/টিএ