ইজিবাইকে ওঠাকে কেন্দ্র করে এজলাস কক্ষে আইনজীবীকে জুতা নিক্ষেপ
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৩৩ এএম | ১৮ মে, ২০২৬
বরগুনার পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাস কক্ষে দুই আইনজীবীর মধ্যে হাতাহাতি ও জুতা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলা আইনজীবী সমিতি অভিযুক্ত ওই দুই আইনজীবীর সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
রোববার (১৭ মে) দুপুরের দিকে পাথরঘাটা আদালতের এজলাস কক্ষে এ হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। রাতে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হাতাহাতির ঘটনায় জড়িত দুই আইনজীবী হলেন অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মঞ্জু এবং অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা লাকি। এদের মধ্যে নাহিদ সুলতানা লাকি বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি এবং পাথরঘাটা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মঞ্জু তার চেম্বার থেকে একটি ইজিবাইকে করে আদালতের উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় তার সঙ্গে অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা লাকির সহকারী মিরাজ আহমেদও একই ইজিবাইকে আদালতে আসেন। মঞ্জুর সঙ্গে নিজের সহকারীর একই গাড়িতে আসাকে কেন্দ্র করে লাকি ও মঞ্জুর মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আদালতের এজলাস কক্ষেই তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও একে অপরের দিকে জুতা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। তবে ওই সময় আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. পনির শেখ তার খাস কামরায় ছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘অ্যাডভোকেট লাকি পেশায় আমার সিনিয়র। তবে তিনি সব আইনজীবীর সঙ্গেই খারাপ আচরণ করেন। অতিরিক্ত পিপি এবং পাথরঘাটা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক, এই দুটি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। আমার কাছে মামলা-মোকদ্দমা বেশি থাকায় তিনি ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাকে সহ্য করতে পারেন না। সকালে ইজিবাইকে আমার সঙ্গে তার একজন সহকারী আদালতে যায়। আমি ও তার ওই সহকারী একত্রে আসায় তিনি আমাকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি আমার গায়ে ব্যাগ ছুড়ে মারেন এবং জুতাও নিক্ষেপ করেন।’
অন্যদিকে অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা লাকি বলেন, ‘অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মঞ্জু আওয়ামী লীগ করেন। এখানে আওয়ামী লীগ বেশি, আর বিএনপির আমি একা। এ কারণে তাদের একটা দাপট আছে। সে সবসময়ই আজেবাজে কথা বলে, আমার চেম্বারের সহকারী নিয়ে ঝামেলা করে। সে আমার ক্ষতি করারও চেষ্টা করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, সে মামলার দুই পক্ষের হয়েই কাজ করে। আমি এ বিষয়ের সঠিক বিচার করব বিধায় সে আমার ওপর ক্ষিপ্ত। আর এ কারণেই আজকের ঘটনা ঘটেছে।’
সার্বিক বিষয়ে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বলেন, ‘হাতাহাতির একটি ভিডিও দেখে জরুরি সভা ডেকে ওই আইনজীবী দুজনেরই সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। জেলার সব আদালতে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের স্থায়ীভাবে সদস্যপদ বাতিল করার জন্য কেন বার কাউন্সিলে প্রেরণ করা হবে না, এই মর্মে আগামী সাত দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।’
এসকে/টিএ