বাংলাদেশের কোচকে মায়ের অনুরোধ, ‘বাবা, লাল কার্ড হজমের মতো দুষ্টুমি করো না’
ছবি: সংগৃহীত
১০:২৫ পিএম | ০২ এপ্রিল, ২০২৬
ফুটবলের উত্তাপের মাঝেও কখনও কখনও মানবিক গল্প জায়গা করে নেয় শিরোনামে। বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ মার্ক কক্সের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা ঠিক তেমনই মাঠের লাল কার্ডের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে মায়ের স্নেহভরা বারণ।
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে উত্তেজনার এক মুহূর্তে লাল কার্ড দেখেছিলেন কক্স। মাঠের সেই দৃশ্য চোখ এড়ায়নি তার ৮৬ বছর বয়সী মায়েরও। দূর দেশ থেকে ছেলেকে ফোন করে সোজাসাপ্টা বার্তা ‘বাবা, লাল কার্ড হজমের মতো দুষ্টুমি করো না।’
একটু হাসি, একটু ভালোবাসা কিন্তু বার্তাটা ছিল গভীর, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতোই। ফুটবলের রণক্ষেত্রেও মা যেন মনে করিয়ে দিলেন, যাই হোক না কেন শৃঙ্খলাই আসল শক্তি। কক্সের দল এখন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। কাল মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় প্রতিবেশি ভারতের মুখোমুখি হবে তারা। লাল-সবুজ দল নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। আর ভুটানকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত।
২৮ মার্চ গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ-ভারত। ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়। এই ম্যাচের প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে চতুর্থ রেফারির সঙ্গে তর্ক করে হলুদ কার্ড দেখেন ভারতীয় হেড কোচ মহেশ গাউলি। এসময় প্রতিবেশী দেশের গোলকিপিং কোচ সন্দীপ নন্দীর সঙ্গে তর্কে জড়ান কক্স। রেফারি দুজনকে লাল কার্ড দেখান।

লাল কার্ড হজমের পর নেপালের বিপক্ষে ডাগ আউটে দাঁড়াতে পারেননি বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ। টুর্নামেন্টে আরেকবার ভারতের মুখোমুখির আগে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে উঠে এলো সে প্রসঙ্গ। এসময় মজা করে কক্স জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর তার মা তাকে ফোন করেন।
কক্স বলেন, ‘আমার ৮৬ বছর বয়সী মা ফোন করে আমাকে বলেছেন, এই বয়সে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার মতো দুষ্টুমি করো না। জীবন মানেই তো ফুরফুরে থাকা।’ দ্বিতীয় শিরোপ জয়ের মিশনে ডাগআউটে শান্ত মেজাজে থাকবেন বলে জানিয়েছেন কক্স। নিজেই যেন নিজের সঙ্গে প্রতিজ্ঞা করলেন, যতটা সম্ভব চুপিসারে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমার মাথায় একটি মূল কৌশল রয়েছে যা আমার দলকে সাহায্য করবে বলে আমি মনে করি এবং এটি দলের জন্য ভালো হবে। কৌশলটি আমি এখনই আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি। আমি ডাগআউটেই (বেঞ্চে) থাকব, মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হবো না। আপাতত এটাই আমার মূল কৌশল যে শান্ত থাকা, ভালো আচরণ করা এবং খেলোয়াড়দেরই তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে কথা বলতে দেওয়া।’
এসএস/টিকে