দুনিয়ায় শান্তি ও আখেরাতে মুক্তির জন্য আল্লাহর ভয় জরুরি: মুফতি ফয়জুল করীম
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০২ এএম | ০৩ এপ্রিল, ২০২৬
দুনিয়ায় শান্তি ও পরকালে মুক্তির জন্য প্রত্যেক মানুষকে আল্লাহর ভয় বা তাকওয়া অর্জন করে আখিরাতের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নায়েবে আমিরুল মুজাহিদীন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই)।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বাদ মাগরিব বরিশালের ঐতিহাসিক চরমোনাই মাহফিলের দ্বিতীয় দিনের মূল বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।
শায়খে চরমোনাই বলেন, ‘গুনাহ মানুষের অন্তরকে কলুষিত করে দেয়। যখন কলব অপরিষ্কার হয়ে যায়, তখন মানুষ ধীরে ধীরে গর্হিত কাজে লিপ্ত হয়। কিন্তু যারা তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করে নিজেদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ রাখে, তাদের দ্বারা গুনাহের কাজ প্রকাশ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাকওয়া অর্জন ছাড়া দুনিয়া ও আখিরাতে মুক্তির কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য মানুষের অন্তর থেকে দুনিয়ার মোহমায়া দূর করে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করতে হবে। মানুষ দুনিয়ায় ভালো থাকার জন্য অনেক কিছুই করে, সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে নিরন্তর চেষ্টা চালায়। কিন্তু প্রকৃত বুদ্ধিমান তারা, যারা অনন্ত জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়ার মোহে পড়ে চিরস্থায়ী আখিরাতের সুখ-শান্তি নষ্ট করা উচিত নয় উল্লেখ করে প্রত্যেক মানুষের উচিত নিজের আমল ঠিক রেখে পরকালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চরমোনাইয়ে আগত মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি কখনো নামাজের জামাত ত্যাগ না করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বেশি বেশি জিকির তথা আল্লাহকে স্মরণ করার আহ্বান জানান।
তরিকার মুরিদদের উদ্দেশে তিনি সাপ্তাহিক হালকায়ে জিকির, মাসিক ইজতেমা, পাঁচটি ওষুধ ও তিনটি সবক, যা আত্মশুদ্ধি ও আত্মগঠনের বিশেষ আমল, এসব নিয়মিত পালনের নির্দেশনা দেন।
ঐতিহাসিক চরমোনাই মাহফিল ময়দানে এদিন আরও বয়ান পেশ করেন মুফতি সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, মাওলানা সেকান্দার আলী সিদ্দিকী, আল্লামা জাফর আহমাদ এবং জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করীম আবরারসহ দেশবরেণ্য ওলামা-মাশায়েখগণ।
আগামী শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৮টায় আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে এবারের চরমোনাই মাহফিলের সমাপ্তি ঘটবে। এর আগে, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) চরমোনাই ময়দানে দেশের সর্ববৃহৎ জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল থেকে হাজার হাজার মুসল্লির ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেএন/এসএন