© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আজ পপসংগীতশিল্পী নাজিয়া হাসানের জন্মদিন

শেয়ার করুন:
আজ পপসংগীতশিল্পী নাজিয়া হাসানের জন্মদিন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:০৬ পিএম | ০৩ এপ্রিল, ২০২৬
উপমহাদেশের পপসংগীতের ইতিহাসে যে কয়েকটি নাম সময় পেরিয়েও আলাদা দীপ্তি নিয়ে উচ্চারিত হয়, তাদের অন্যতম নাজিয়া হাসান। আজকের দিনেই জন্ম হয়েছিল এই কিংবদন্তি শিল্পীর, যিনি খুব অল্প বয়সেই সংগীতজগতে এমন এক অবস্থান তৈরি করেছিলেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রিয় সংস্কৃতিকে নতুন এক ধারা দিয়েছিল।

১৯৬৫ সালে জন্ম নেওয়া নাজিয়া শুধু গায়িকা ছিলেন না, তিনি ছিলেন আইনজীবী ও সমাজসেবীও। সংগীতের মঞ্চে তাঁর উত্থান ঘটে কৈশোরেই। মাত্র পনেরো বছর বয়সে তিনি যে সাফল্য অর্জন করেন, তা তখনকার সময়ের জন্য ছিল বিস্ময়কর। ভারতীয় চলচ্চিত্রে নেপথ্য কণ্ঠ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি প্রথম পাকিস্তানি শিল্পী হিসেবে শ্রেষ্ঠ নারী নেপথ্য শিল্পী বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন। সেই অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন ওই পুরস্কারের সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ীদের একজন।



সংগীতজীবনের শুরুতেই তাঁর কণ্ঠে উঠে আসে এমন সব গান, যা সীমান্ত পেরিয়ে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ গোটা দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ প্রজন্মকে এক সুতোয় বেঁধেছিল। পরে ভাই জোয়েব হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ‘নাজিয়া ও জোয়েব’ নামে যে যুগলযাত্রা শুরু করেন, তা আশির দশকের সংগীতভুবনে এক নতুন অধ্যায় রচনা করে। তাদের প্রকাশিত অ্যালবাম ও গান বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়; বিক্রি হয় ছয় কোটিরও বেশি রেকর্ড।

নাজিয়ার গানে ছিল আধুনিকতার ছাপ, কিন্তু তার ভেতরে ছিল আবেগ, তারুণ্য ও সময়ের ভাষা। পাকিস্তানের পপসংগীতকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আজও বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান প্রাইড অব পারফরম্যান্স লাভ করেন।

ব্যক্তিজীবনেও ছিল আলো-আঁধারি। ত্রিশ বছর বয়সে ব্যবসায়ী মির্জা ইশতিয়াক বেগকে বিয়ে করেন তিনি। দুই বছর পর জন্ম নেয় তাঁদের পুত্র আরেজ হাসান। তবে দাম্পত্যজীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে বিবাহবিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত এক কঠিন সময় পার করতে হয় তাঁকে। জানা যায়, মৃত্যুর মাত্র দশ দিন আগে তাঁদের বিচ্ছেদ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়।

যৌবনেই ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হন নাজিয়া। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মাত্র পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। কিন্তু তাঁর কণ্ঠ, তাঁর উপস্থিতি এবং তাঁর সাংস্কৃতিক প্রভাব আজও অম্লান।

প্রজন্ম বদলেছে, সংগীতের ভাষা বদলেছে, কিন্তু নাজিয়া হাসান এখনো সেই নাম যাঁকে স্মরণ করলে দক্ষিণ এশিয়ার পপসংগীতের এক স্বর্ণযুগ চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

পিআর/টিকে

মন্তব্য করুন