অধ্যাদেশ বাতিল ও স্থগিতের সুপারিশে টিআইবির ক্ষোভ ও হতাশা
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫১ পিএম | ০৩ এপ্রিল, ২০২৬
বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ বাতিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ স্থগিতের সুপারিশে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানায় সংস্থাটি।
টিআইবি দাবি করেছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, পৃথক সচিবালয় এবং মানবাধিকার কমিশন—এই তিনটি অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন ও তথ্য অধিকারবিষয়কসহ স্থগিতের সুপারিশপ্রাপ্ত অন্যান্য অধ্যাদেশগুলো সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে দ্রুত যাচাই-বাছাই শেষে আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক উদ্যোগ ছিল। এর মধ্যে বিচারক নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এগুলো বাতিল বা স্থগিত করা সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং অত্যন্ত হতাশাজনক।
তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশন ও বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা এবং গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধানের অভাবে মানুষের জীবন কতটা দুর্বিসহ হয়ে উঠতে পারে, তা ক্ষমতাসীন দলের প্রধানসহ কর্তাব্যক্তিদের বিস্মৃত হওয়ার কথা নয়! কারণ তারা প্রায় সকলেই উক্ত ক্ষেত্রগুলোতে আইনগত দুর্বলতা, বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও মানবাধিকার কমিশনের মতো সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণের মাধ্যমে অকার্যকরতার ফলে বহুমাত্রিক অধিকার হরণের ভুক্তভোগী। যদি তারা কর্তৃত্ববাদ ও রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে, তবে অধ্যাদেশগুলো হুবহু বিল আকারে অবিলম্বে সংসদে অনুমোদনের উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে দেশবাসীকে তার প্রমাণ দেওয়া উচিত।
বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময় গুম খুনের শিকার হওয়া একটি দলের সরকার কীভাবে গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত দুইটি অধ্যাদেশকেও কোন যৌক্তিকতায় এবং কাদের দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে অধিকতর যাচাই বাছাইয়ের ফাঁদে ফেলে দিলো এমন প্রশ্ন তুলে নির্বাহী পরিচালক বলেন, আইনের দুর্বলতা থাকলে তা সংশোধন করা যেতে পারে, তবে কোনোভাবেই যেন দায়মুক্তির সুযোগ সৃষ্টি না হয়।
এছাড়াও দুদক অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতিতে যেসব সংস্কার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, সেগুলোর আলোকে সংশোধন করে দ্রুত বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা উচিত। পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এতে একটি স্বাধীন ও পেশাদার পুলিশ ব্যবস্থা গঠনের প্রতিফলন নেই।
একইসঙ্গে তথ্য অধিকার আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে তথ্যের সংজ্ঞা, কর্তৃপক্ষের আওতা এবং কমিশনের কাঠামো উন্নয়নের আহ্বান জানিয়ে টিআইবি বলেছে, স্থগিত হওয়া সব অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে পরিণত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
টিজে/টিকে