কাপ্তাই হ্রদে ৫ দিন বন্ধ থাকার পর ফের স্পিডবোট চলাচল শুরু
ছবি: সংগৃহীত
০৭:২৮ পিএম | ০৫ এপ্রিল, ২০২৬
জ্বালানি তেলের অভাবে ৫ দিন বন্ধ থাকার পর ফের কাপ্তাই হ্রদে স্পিডবোট চলাচল শুরু হয়েছে। এতে জরুরি প্রয়োজনে যাত্রী ও রোগী পরিবহনে স্বস্তি ফিরেছে জনমনে। এতে চালকদের মধ্যে রোজগারের দুশ্চিন্তা ছেড়ে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাহিদা মতো জ্বালানি তেল অকটেন না পেয়ে কাপ্তাই হ্রদে গত ৩১ মার্চ স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন কাপ্তাই হ্রদের নৌপথে চলাচল করা যাত্রী ও জরুরি রোগী পরিবহন সেবা। পরে জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে জেলা শহরের ৩টি ফিলিং স্টেশন থেকে সপ্তাহে তিনদিন ৫০০ লিটার করে অকটেন বরাদ্দ করা হয়। এবং উপজেলার পাম্প থেকে ১৫০ লিটার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এরপর শনিবার (৪ এপ্রিল) সীমিত পরিসরে এবং রোববার (৫ এপ্রিল) পুরোদমে স্পিডবোট চলাচল অব্যাহত রেখেছে চালকরা।
চালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কাপ্তাই হ্রদে এখন পানি কমতে শুরু করেছে। এ সময়ে লঞ্চে যাতায়াতে সময় বেশি লাগে। তাই যাত্রীরা স্পিডবোটে যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহন করা হয় স্পিডবোটে। এখন প্রতিদিন ২০টি বোট চলাচল করার চাহিদা আছে। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে ১০ টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কাপ্তাই হ্রদে ৫০ টি স্পিডবোট চলাচল করতে পারবে। এতে যাত্রী সেবার পাশাপাশি চালকরাও আয় রোজগার করতে পারবে।
সাপ্তাহিক দুদিনের ছুটিতে প্রতি বৃহস্পতিবার কর্মস্থল লংগদু থেকে রাঙ্গামাটি শহরের বাড়িতে আসেন ব্যাংক কর্মকর্তা অসীম চাকমা।
তিনি বলেন, স্পিডবোট চলাচল করলে আমরা অফিস শেষ করে প্রতি বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসি এবং রবিবার সকালে গিয়ে অফিস করতে পারি সহজে। স্পিডবোট না থাকলে লঞ্চে যাতায়াতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। তখন একদিন আগেই কর্মস্থলে ফিরে যেতে হয়। স্পিডবোট চলাচল অব্যাহত থাকলে যাত্রীসেবা ও জরুরি রোগী পরিবহনেও এখানকার মানুষের উপকারে লাগে।
পার্বত্য স্পিডবোট মালিক সমিতির ব্যবস্থাপক মো. মহিউদ্দিন বলেন, জ্বালানির অভাবে ৫ দিন যাত্রীবাহী স্পিডবোট সার্ভিস বন্ধ ছিল। পরে প্রশাসনের সহযোগীতায় শনিবার ৫০০ লিটার অকটেন বরাদ্দ পাই আমরা। তেল পাওয়ায় রোববার সকাল থেকে আবারও স্পিডবোট চালু করা হয়েছে। যতদিন তেল থাকবে ততদিন আমাদের যাত্রীসেবা অব্যাহত থাকবে।
এমআর/এসএন