ইরানে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ নিয়ে ‘একদমই চিন্তিত নই’: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত
১২:৪৫ পিএম | ০৭ এপ্রিল, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের যে হুমকি তিনি দিয়েছেন—তা যুদ্ধাপরাধ হতে পারে কি না, সে বিষয়ে তিনি ‘একেবারেই চিন্তিত নন’। তিনি বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে চিন্তিত নই।’
সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দিতে গিয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘জানেন, যুদ্ধাপরাধ কী? ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র রাখা।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী বলেছে, প্রণালীটি তাদের নৌবাহিনীর ‘দৃঢ় ও কর্তৃত্বপূর্ণ’ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি ইরানের ‘শত্রুদের জন্য’ বন্ধই থাকবে।
এর ফলে একদিকে যেমন উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রফতানি হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে বিশ্বের বহু দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নৌপথটির নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া ট্রাম্প ইরানকে এ ব্যাপারে একের পর এক ডেডলাইন দেন।
সবশেষ আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম) (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৩টা) পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেন। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এই সময়সীমার মধ্যে তেহরান চুক্তি না করলে কঠোর সামরিক পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন ক্ষমতা আছে যে তারা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘মানে পুরোপুরি ধ্বংস… রাত ১২টার মধ্যে শেষ করে দেয়া যাবে… আর আমরা চাইলে চার ঘণ্টার মধ্যেই এটা করতে পারি।’ তিনি আরও জানান, এই হামলার লক্ষ্য হতে পারে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। তিনি এটিকে ‘সেতু দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বলেন, ‘মঙ্গলবার হবে সেতু দিবস’।
সামরিক আইনের কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এত বড় পরিসরের এমন হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেসের একজন মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ।
মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, ‘কোনো বেসামরিক স্থাপনা যদি সামরিক লক্ষ্য হিসেবেও বিবেচিত হয়, তবুও যদি তাতে অতিরিক্ত বেসামরিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে, তাহলে সেই হামলা নিষিদ্ধ।’
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সাবেক জাজ অ্যাডভোকেট এবং বর্তমানে আইন অধ্যাপক র্যাচেল ভ্যানল্যান্ডিংহ্যাম বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে হাসপাতাল ও পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলো অচল হয়ে পড়বে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প আসলে বলছেন—আমরা নিখুঁত হামলা বা বেসামরিক মানুষের ক্ষতির ব্যাপারে চিন্তা করছি না, আমরা শুধু ইরানের পুরো বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাই ধ্বংস করে দেব।’
টিজে/টিকে