© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইতিহাসের গভীরে মুসলিম ঐতিহ্যে ঘেরা জিব্রাল্টার

শেয়ার করুন:
ইতিহাসের গভীরে মুসলিম ঐতিহ্যে ঘেরা জিব্রাল্টার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:১১ পিএম | ০৭ এপ্রিল, ২০২৬
জিব্রাল্টার আইবেরিয়ান উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। ছোট হলেও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি। এর উত্তরে আছে স্পেনের সঙ্গে সীমান্ত। মাত্র ৬.৭৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই অঞ্চলের জনসংখ্যা প্রায় ৩২ হাজারের কিছু বেশি।

ঐতিহাসিকভাবে উমাইয়া সেনাপতি তারিক ইবনে জিয়াদের নাম অনুসারেই ‘জিব্রাল্টার’ নামটির উৎপত্তি, যার অর্থ ‘তারিকের পর্বত’।জিব্রাল্টারের জলবায়ু উপক্রান্তীয় ভূমধ্যসাগরীয় ধরনের। এখানে গ্রীষ্মকাল সাধারণত উষ্ণ ও শুষ্ক আর শীতকাল মৃদু ও বৃষ্টিবহুল। সারা বছর দিনের গড় তাপমাত্রা প্রায় ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

জিব্রাল্টার ভৌগোলিক দিক থেকে অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়।পুরো উপদ্বীপটি মূলত চুনাপাথর ও কঠিন শিলা দিয়ে গঠিত, যার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বিখ্যাত ‘রক অব জিব্রাল্টার’।এই শিলাস্তম্ভটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪২১ মিটার উঁচুতে উঠে গেছে আর উপদ্বীপের সর্বোচ্চ উচ্চতা প্রায় ৪২৬ মিটার। ভূমধ্যসাগরের দিক থেকে তাকালে জিব্রাল্টারের পূর্ব উপকূলে খাড়া ও পাথুরে পাহাড়ের সারি চোখে পড়ে, যা একে আরো আকর্ষণীয়।

এখানে কোনো নদী বা ঝরনা নেই, তবু প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের অভাব নেই। উপদ্বীপজুড়ে ৫০০-এরও বেশি প্রজাতির ছোট সপুষ্পক উদ্ভিদ জন্মায়; পাশাপাশি জলপাই ও বুনো পাইনগাছও দেখা যায়। প্রাণিজগতের মধ্যে খরগোশ, শিয়াল এবং বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বারবারি ম্যাকাকের উপস্থিতি লক্ষণীয়। এ ছাড়া ইউরোপে বারবারি তিতির পাখির একমাত্র আবাসস্থলও এই জিব্রাল্টার। অর্থনৈতিক দিক থেকেও জিব্রাল্টার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এটি একটি শুল্কমুক্ত বন্দর হওয়ায় এখানে তামাক, অ্যালকোহল, সুগন্ধি, দুগ্ধজাত পণ্য, ইলেকট্রনিকসসহ নানা পণ্যের বাণিজ্য সমৃদ্ধ হয়েছে।

জিব্রাল্টারের অর্থনীতি মূলত পর্যটন, বন্দর কার্যক্রম, জাহাজ চলাচল সুবিধা, অফশোর আর্থিক খাত, নির্মাণ এবং উৎপাদন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। এর প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে আছে পেট্রোলিয়াম ও বিভিন্ন উৎপাদিত সামগ্রী। সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব—দুই দিক থেকেই জিব্রাল্টার একটি অনন্য ভূখণ্ড।

এসএ/এসএন

মন্তব্য করুন