মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব বলছেন 'যিশুর নামে যুদ্ধ'; পোপ বলছেন 'যিশু যুদ্ধের প্রার্থনা শোনেন না'
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২১ পিএম | ০৭ এপ্রিল, ২০২৬
ভ্যাটিকান সিটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ধর্মের ব্যবহার নিয়ে সরাসরি বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং ক্যাথলিক জগতের প্রধান ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ। হেগসেথ যখন মার্কিন সেনাদের যিশুর জন্য লড়াইয়ের আহ্বান জানাচ্ছেন, পোপ তখন একে খ্রিষ্টীয় আদর্শের বিকৃতি ও আধিপত্য বিস্তারের লালসা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ আমেরিকানদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বিজয়ের জন্য যিশু খ্রিষ্টের নামে প্রতিদিন হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা করেন। তবে প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ লিও চতুর্দশ এই ধারণার সঙ্গে কড়া দ্বিমত পোষণ করেছেন।
ইস্টারের আগের বৃহস্পতিবার (পবিত্র বৃহস্পতিবার) রোমের বিশপের ক্যাথেড্রাল ব্যাসিলিকা অফ সেন্ট জন ল্যাটারান-এ এক ধর্মীয় উপদেশে পোপ বলেন, খ্রিষ্টীয় মিশন অনেক সময় আধিপত্য বিস্তারের লালসার মাধ্যমে বিকৃত হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের মানসিকতা যিশু খ্রিষ্টের মূল শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই পোপ লিও চতুর্দশ ক্রমাগত সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। হেগসেথের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও পোপ বলেন, আমরা যখন আধিপত্য বিস্তার করি তখন নিজেদের শক্তিশালী মনে করি, যখন সমান কাউকে ধ্বংস করি তখন বিজয়ী মনে করি। কিন্তু ঈশ্বর আমাদের উদাহরণ দিয়েছেন আধিপত্য বিস্তারের নয় বরং মুক্ত করার; জীবন ধ্বংস করার নয় বরং জীবন দান করার। এর আগে মার্চের শেষে এক উপদেশে তিনি আরও কঠোর ভাষায় বলেছিলেন, যিশু যারা যুদ্ধ করে তাদের প্রার্থনা শোনেন না, বরং তা প্রত্যাখ্যান করেন।
পোপ হিসেবে প্রথম বছরে লিও সরাসরি মার্কিন রাজনীতিতে না জড়ানোর চেষ্টা করলেও তার পরোক্ষ প্রভাব স্পষ্ট। গত বছর অভিবাসী ইস্যুতে মার্কিন বিশপদের পাশে দাঁড়ানোর পর এবার যুদ্ধ নিয়েও তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছেন।
রোমের বাইরে ক্যাস্টেল গানডলফোয় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পোপ বলেন, আমাকে বলা হয়েছে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আশা করি তিনি সহিংসতা এবং বোমাবর্ষণ কমানোর পথ খুঁজছেন।
ভ্যাটিকানের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পোপ লিও যুদ্ধের বিষয়ে সরাসরি ট্রাম্পের সাথে কথা না বললেও শুক্রবার সকালে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন। সে ফোনালাপে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে একটি ন্যায়সঙ্গত এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সংঘাত অবসানের ওপর জোর দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পোপের এই অবস্থান হেগসেথের মতো কট্টরপন্থীদের জন্য একটি নৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করল, যা খ্রিষ্টধর্মের ব্যাখ্যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
এবি/টিএ
এবি/টিএ