প্রশ্ন আসিফ মাহমুদেরশুধু দেশের সংবিধানই সংবিধান, বিসিবির সংবিধান কি সাদা-কালো কাগজ?
ছবি: সংগৃহীত
০৯:১৩ এএম | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে বলে সম্প্রতি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। সেই অনিয়মের দায়ে গত মঙ্গলবার আমিনুল হক বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবি-র পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সে জায়গায় তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি দিয়েছে এনএসসি।
বিসিবির এই অ্যাডহক কমিটি গঠিত হওয়ার পর থেকেই আলোচনা-সমালোচনা কম হচ্ছে না। বিষয়টি উঠেছিল জাতীয় সংসদেও। গতকাল বুধবার বিসিবিকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ হিসেবে মন্তব্য করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
পরে হাসনাতের মন্তব্যের কড়া জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমেদ। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিসিবি নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগও তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে রাতে মুখ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। সাবেক এ ক্রীড়া উপদেষ্টা পাল্টা অভিযোগ তুলে জানান, অ্যাডহক কমিটি বলতে বিসিবির সংবিধানে কিছু নেই। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর নামে যে অভিযোগ দিয়েছেন, সেটির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রাত ১১টা ৫২ মিনিটে দেওয়া পোস্টে আসিফ মাহমুদ লিখেছেন, ‘বিসিবি নির্বাচনটা বিসিবির সংবিধান অনুযায়ীই করা হয়েছিল মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংবিধান মানতে গিয়েই আপনাদের দলীয় নেতাদের কাউন্সিলর করা হয়নি। বরং এডহক কমিটি বলতে কিছুই বিসিবির সংবিধানে নাই।’
সাবেক এ ক্রীড়া উপদেষ্টা প্রশ্ন তোলেন, ‘শুধু দেশের সংবিধানই সংবিধান, বিসিবির সংবিধান কি সাদা-কালো কাগজ?’

তা আসিফ মাহমুদ কেন এত প্রতিক্রিয়া দেখালেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই বা গতকাল কী মন্তব্য করেছিলেন? শুরুটা করেছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায়মুক্তি বিল’ নিয়ে আলোচনার মাঝে এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেভাবে নগ্ন দলীয়করণ করা হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে দখল করা হয়েছে, যেভাবে বিসিবিকে... এটা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আর নাই। এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়েছে।’
পরে হাসনাতের মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে শুরুতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখন কীসের মধ্যে কী, পান্তা ভাতে ঘি।’ পাশাপাশি সালাহউদ্দীন আহমেদ প্রশ্ন তোলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায়মুক্তি বিল নিয়ে আলোচনায় বিসিবি কীভাবে এল?
শুধু প্রশ্ন তুলেই থেমে থাকেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিসিবির নতুন কমিটি নিয়েও মন্তব্য করেছেন। সেখানেই অভিযোগ তোলেন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের নামে। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিসিবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ক্রীড়া উপদেষ্টা ক্ষমতা প্রয়োগ করে সারা দেশের কমিটিগুলোকে প্রভাবিত করেছিলেন। নিবন্ধিত ক্লাবগুলোর কাউন্সিলরদের সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবং হাইকোর্টের রিট পেন্ডিং রেখে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে একতরফাভাবে বিসিবির বোর্ড গঠন হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার ক্রীড়ামন্ত্রীর নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে। প্রতিবেদনের পর এটা করা হয়েছে। অনেক কথা আমি বলতে পারতাম, বলছি না। একটা আহ্বায়ক কমিটি হয়েছে। কাকে দিয়ে হয়েছে? এদেশের একজন কৃতী ক্রিকেটারকে দিয়ে। আমরা এখানে কোনো বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া করি নাই। আগে শুনতাম মায়ের দোয়া পরিবহন আছে, আজকে দেখলাম বাপের দোয়া কমিটি হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই রাতে ওই পোস্ট দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
টিজে/এসএন