২ দশক পর বার্সেলোনার মাঠে জিতল আতলেতিকো
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫৮ এএম | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
ম্যাচ জুড়ে দাপট দেখাল বার্সেলোনা। কিন্তু আতলেতিকো মাদ্রিদের রক্ষণ ভাঙতে পারলেন না লামিন ইয়ামাল, মার্কাস রাশফোর্ড, রবার্ট লেভানডফস্কি। বিপরীতে অল্প সুযোগ পেয়েই কাজে লাগালেন হুলিয়ান আলভারেজ, আলেক্সান্দার সরলথরা। যার সৌজন্যে প্রায় দুই দশকের অপেক্ষা ঘুচল আতলেতিকোর।
ন্যু ক্যাম্পে বুধবার রাতে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে বার্সেলোনা ২-০ গোলে হারায় আতলেতিকো। প্রথমার্ধে আলভারেজ ও দ্বিতীয়ার্ধে সরলথের গোলে সেমি-ফাইনালের পথে এগিয়ে যাওয়ার জয়টি পায় ডিয়েগো সিমেওনের শিষ্যরা।

এই জয়ে বার্সেলোনার মাঠে ২০ বছর ধরে জিততে না পারার আক্ষেপ ঘোচাল আতলেতিকো। এর আগে সবশেষ ২০০৬ সালে বার্সেলোনাকে তাদের মাঠে হারিয়েছিল মাদ্রিদের ক্লাবটি। আর আতলেতিকোর দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯তম ম্যাচে এসে বার্সেলোনার মাঠে জয়ের স্বাদ পেলেন সিমেওনে।
অথচ ম্যাচ জুড়ে দাপট ছিল বার্সার। ৫৫ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রাখে স্বাগতিক ক্লাব। গোলের জন্য তারা করে মোট ১৮টি শট। এর মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্য বরাবর। কিন্তু একটিও প্রবেশ করেনি জালে। বিপরীতে ৩টি লক্ষ্য বরাবর শট করে দুই গোল আদায় করে নেয় আতলেতিকো।
নিজেদের ঘরের মাঠে শুরুতে গুছিয়ে উঠতে কিছুটা সময় নেয় বার্সেলোনা। এর মাঝেই প্রথম ৪ মিনিটে দুটি শট করেন রাশফোর্ড। তবে দুটিই ছিল গোলরক্ষক বরাবর। পঞ্চম মিনিটে আতলেতিকোর হয়ে প্রথম শট নেন আলভারেজ। সেটি ঠেকিয়ে দেন বার্সার গোলরক্ষক।
ম্যাচের ১৮ মিনিটে জালের বল প্রবেশ করান রাশফোর্ড। কিন্তু আক্রমণের শুরুতে লামিন ইয়ামাল অফ সাইডে থাকায় বাতিল হয়ে যায় সেই গোল। পরে ম্যাচের ৩০ মিনিটে আবার চেষ্টা করেন রাশফোর্ড। কিন্তু আতলেতিকোর রক্ষণ ভাঙতে পারেননি।
দুই মিনিট পর জাদুকরী কারিকুরিতে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে যান ইয়ামাল। কিন্তু তিনিও আতলেতিকোর রক্ষণ ভেদ করে বল জালে পাঠাতে পারেননি।
খেলার ধারার বিপরীতে ৪০ মিনিটের মাথায় পাল্টা আক্রমণে ওঠে আতলেতিকো। বল ধরার জন্য ছুটতে থাকা গুইলানো সিমেওনের পেছনের পায়ে লেগে যায় পাও কুবারসির শরীর। রেফারি প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও, ভিএআরে সেটি বদলে সরাসরি লাল কার্ড দেন।
একইসঙ্গে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পেয়ে যায় আতলেতিকো। ডান পায়ের চমৎকার বাঁকানো শটে ওই ফ্রি-কিক থেকে গোল আদায় করে নেন আর্জেন্টাইন তারকা আলভারেজ। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি তার নবম গোল।
অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে বাম পাশ থেকে চেষ্টা করেন রবার্ট লেওয়ানডফস্কি। তবে তার শট ঠেকিয়ে দেন আতলেতিকো গোলরক্ষক হুয়ান মুসো। তাই শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় স্বাগতিক বার্সেলোনার।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে দশ জনের দল নিয়েও আতলেতিকোর ওপর চাপ তৈরি করে খেলতে থাকে বার্সেলোনা। ম্যাচের ৫০ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর চমৎকার থ্রু বল দেন ইয়ামাল। বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে কিছুটা দেরি করার পর রাশফোর্ডের বাম পায়ের শট লাগে পাশের জালে।
এক মিনিট পর ডি-বক্সের কাছে ফাউলের শিকার হন ইয়ামাল। রাশফোর্ডের ডান পায়ের বুলেট গতির শট মুসোর গ্লাভস ছুঁয়ে ক্রসবারে লেগে চলে যায় বাইরে। পরে কর্নার থেকে আর তেমন কিছু করতে পারেনি বার্সেলোনা।
৫৯ মিনিটের মাথায় ইয়ামালের নেওয়া কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড ফ্লিপ করেন গাভি। গোলের খুব কাছে বল পেয়ে যান জুলস কুন্দে ও দানি ওলমো। কিন্তু দুজনের কেউই পা ছোঁয়াতে পারেননি। তাই হাতছাড়া হয় গোলের বড় সুযোগ।
পরের মিনিটে আবার থ্রু বল পান রাশফোর্ড। কিন্তু আরও একবার নিয়ন্ত্রণ নিতে দেরি করে ফেলেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড। তাই সে যাত্রায়ও বিপদ ঘটেনি আতলেতিকোর।
আরও একবার খেলার ধারার বিপরীতে স্বাগতিক দর্শকদের হতাশায় ডোবায় ডিয়েগো সিমেওনের দল। ম্যাচের ৭০ মিনিটে বাম পাশ থেকে মাতেও রুগেরির ক্রসে চমৎকার প্রথম ছোঁয়ায় বল জালে জড়ান বদলি হিসেবে নামা আলেক্সান্ডার সরলথ।
মিনিট দুয়েক পর ইয়ামালের ক্রস থেকে দারুণ জায়গায় বল পান রোনাল্ড আরাউহো। তবে অল্পের জন্য তার হেড জালের ওপর দিয়ে চলে যায়। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে যান হোয়াও কান্সেলো। তার বাম পায়ের শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান মুসো।
ওই কর্নার থেকে বল পেয়ে দ্রুতই বাম পায়ের শট নেন ইয়ামাল। এবারও বার্সেলোনাকে হতাশায় ডোবান আতলেতিকো গোলরক্ষক। ৮৫ মিনিটে পায়ের কারিকুরি দেখিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন ইয়ামাল। তবে শট নিতে পারেননি স্প্যানিশ তারকা। ৯০ মিনিটের মাথায় আবারও সম্ভাবনা জাগান ইয়ামাল। কিন্তু তার এগিয়ে দেওয়া বল ধরে আলেক্সান্দ্রো বালদে ক্রস করলেও, হেড দেওয়ার মতো কেউই জায়গায় ছিলেন না।
ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে দারুণ জায়গায় ফ্রি-কিক পেয়ে যায় বার্সেলোনা। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা।
পরের মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে ডি-বক্সে বল পান ওলমো। কিন্তু তার বাঁকানো শট চলে যায় বাইরে দিয়ে। ফলে আর ব্যবধান কমানো হয়নি বার্সেলোনার।
আগামী মঙ্গলবার রাতে ফিরতি লেগের ম্যাচে আতলেতিকোর মাঠে মুখোমুখি হবে দুই দল। সেমি-ফাইনালের টিকিট পেতে ওই ম্যাচে ৩-০ গোলে জিততে হবে বার্সেলোনার।
আরআই/টিএ