বৈসাবি নয়, উৎসব হবে সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্বকীয় রীতিতে: দীপেন দেওয়ান
ছবি: সংগৃহীত
০২:৩৬ পিএম | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
এখন থেকে আর ‘বৈসাবি’ নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক উৎসবগুলো যার যার সম্প্রদায়ের স্বকীয় রীতিতে পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সামাজিক উৎসবগুলো (বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিষু, চাংলান, চাংক্রান) উপলক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখন থেকে এই উৎসবগুলোকে আমরা ‘বৈসাবি’র মতো কোনো সংক্ষিপ্ত নামে নয়, বরং স্বকীয় (নিজস্ব) নামে ও রীতিতে পালন করব। আমরা চাই না এ ধরনের সামাজিক উৎসবে কোনো প্রকার বৈষম্য বা পরিচয়ের সংকট থাকুক।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১টি সম্প্রদায়ের এই উৎসবের মূল বার্তা হলো শান্তি ও সম্প্রীতি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার প্রতিটি মানুষের স্বকীয়তা রক্ষা ও উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
উৎসবের বিস্তারিত সময়সূচি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, আগামী ১২ এপ্রিল ‘ফুল বিজু’ বা ‘বৈসু’র মাধ্যমে প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হবে। ১৩ এপ্রিল ঘরে ঘরে ঐতিহ্যবাহী ‘পাঁজন’ রান্নার মধ্য দিয়ে মূল উৎসব উদযাপিত হবে এবং ১৪ এপ্রিল জলকেলি ও আশীর্বাদ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান প্রতিটি উৎসবে যেন বৈচিত্র্যের প্রতিফলন ঘটে। রংধনুর সাত রঙের মতো প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্বকীয়তা উৎসবে ফুটে উঠবে- এটাই স্বাভাবিক। আমাদের এই ঐতিহ্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি আরও যোগ করেন, এই উৎসবগুলো কেবল নিছক কোনো অনুষ্ঠান নয়; বরং এগুলো আমাদের শেকড় ও আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাহাড়ি জনগণের স্বকীয়তা বজায় রেখে তাদের উন্নয়নের মূলস্রোতে সম্পৃক্ত রাখাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উৎসব উপলক্ষ্যে আগামী ১২ এপ্রিল রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’ থেকে রমনা পার্কের লেক পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও পুষ্প বিসর্জন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় এই উৎসবমুখর পদযাত্রাটি শুরু হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমআই/এসএন