© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আইসিসির দ্বারস্থ বুলবুল, নির্বাচনে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে চান তামিম

শেয়ার করুন:
আইসিসির দ্বারস্থ বুলবুল, নির্বাচনে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে চান তামিম

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:১৬ পিএম | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) হস্তক্ষেপে বিসিবি বোর্ড ভেঙে দেওয়া এবং তামিম ইকবালকে প্রধান করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমন ঘোষণার পর দেশের ক্রীড়াঙ্গন জুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার পর রাতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এনএসসির বোর্ড ভেঙে দেওয়াকে 'অবৈধ' বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। সেসঙ্গে নিজেকে এখনো বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি দাবি করে বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির 'হস্তক্ষেপ' চেয়ে এক বিবৃতিতে প্রকাশ করেছিলেন। 

তবে এসব বিষয়কে পাশ কাটিয়ে তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, বিসিবির আগামী নির্বাচনে অংশ নিবেন তিনি। নির্বাচনের জন্য এনএসসির বেঁধে দেওয়া সময়ের মেয়াদ ৬ জুলাই। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে বিসিবি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।



একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে দেওয়ার এখতিয়ার ক্রীড়া পরিষদের নেই উল্লেখ করে বিবৃতিতে বুলবুল বলেন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিসিবির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার আইনি অধিকার এনএসসির নেই। এটি আইসিসির গঠনতন্ত্রের সরাসরি লঙ্ঘন। সে সঙ্গে এমন সিদ্ধান্ত দেশের ক্রিকেটের জন্য অশনিসংকেত বলে সতর্ক করেছেন বুলবুল। বলেন, এ ধরনের অস্থিতিশীলতা অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় দলের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধরনের আঘাত হানবে। দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং শিল্প উৎপাদন হ্রাসের এই কঠিন সময়ে ক্রিকেটে এমন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ তরুণ প্রজন্মের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।

এছাড়াও ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়া বিসিবি নির্বাচনে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা কারচুপি হয়নি বলে দাবি বুলবুলের। বিবৃতিতে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপির সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের স্বাধীন নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচন পরিচালনা করেছিল। তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ এবং ১৫টি ক্লাবের আপত্তি সংক্রান্ত সব বিষয় সংবিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হয়েছিল।

আইসিসি এখন বিসিবির বোর্ড ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেয়, সেটা এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়। কারণ, স্বায়ত্তশাসিত বোর্ডের উপর সরকার কিংবা দ্বিতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের বিষয়ে বরবারই কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে আইসিসি। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেটে এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছিলেন এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান। এমনকি এই প্রশ্ন তোলার পক্ষেও তিনি নন। যারা তোলেন তারা 'হীনমন্যতায়' ভুগছেন বলে দাবি এই এনএসসির ক্রীড়া পরিচালকের। বোর্ড ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে আইসিসির অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মঙ্গলবার তিনি জানিয়েছিলেন, এনএসসি ইতিমধ্যে আইসিসির কাছে একটি মেইল পাঠিয়েছে। সে ই-মেইলে এই কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ১১ সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক মিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন আমিনুল এহসান।



তামিম ইকবাল বিসিবির দায়িত্ব পাওয়ার আরধ একটি বিষয় বারবার আলোচনায় এসেছে। এনএসসি জানিয়েছে, এই অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব আগামী তিন মাস। আগামী ৬ জুলাইয়ের মধ্যে এই কমিটি নতুন করে নির্বাচন দিবে। সেই নির্বাচনেও অংশ নিবে অ্যাডহক কমিটি। বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন তামিম ইকবাল নিজেই। অ্যাডহক কমিটি নির্বাচন করতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এড়িয়ে গেছেন এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান। যদিও রাতে এনএসসি জানিয়েছে, অ্যাডহক কমিটি নির্বাচন করতে পারবে না, বাংলাদেশের ক্রীড়া আইনে এমন কোনো বিধি-নিষেধ নেই।

এ দিকে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সহ-সভাপতি রাজিব শুক্লা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হওয়ায় তামিম ইকবালকে অভিনন্দন।একজন সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে তার নেতৃত্ব দেশ ও দেশের বাইরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সম্ভাবনাকে আরো সমৃদ্ধ করবে।

নির্বাচন নিয়ে তামিম ইকবাল বলেন, 'অবশ্যই নির্বাচন করব। আপনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমার ইচ্ছা আছে। আবার উনাদের ইচ্ছা থাকতে পারে, উনারাও করতে পারেন। আবার নাও থাকতে পারেন। যখন একটা ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচন হবে শুধু আমরা না, যারা যারা আগ্রহী আমি সবাইকে অনুরোধ করব সবাই যেন অংশগ্রহণ করেন। একটা বোর্ডের নির্বাচন হবে। যারা যারা আছেন বোর্ডের ক্রিকেটার্স, সংগঠক প্রত্যেকে। প্রত্যেকের অংশগ্রহণ করা উচিত। আমরা সুন্দর একটি পরিবেশ তৈরি করে দেব যেন সবাই এসে নির্বাচন করতে পারবে।'

এসএস/টিকে

মন্তব্য করুন