দেবের ‘ডেডলাইন’-এর ৭২ ঘণ্টার আলোচনার ঝড়
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৫৮ পিএম | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একনিষ্ঠ অভিনেতা-নাট্যব্যক্তিত্ব রাহুল অরুণোদয়ের অকাল মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবিতে গত ৭ এপ্রিল টলিপাড়ায় কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়। কিন্তু, শর্তসাপেক্ষভাবে সেই কর্মবিরতি ৮ এপ্রিল অর্থাৎ বুধবার থেকেই তুলে নেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে টলিপাড়া। মঙ্গলবার রাহুলের জন্য বিচারের দাবিতে যখন পুরো ইন্ডাস্ট্রি একজোট হয়েছিল সেই সময় ‘নিষিদ্ধ’ শিল্পীদের কাজে ফেরানোর দাবিতে সরব হয়েছিলেন মেগাস্টার দেব। মঙ্গলবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওর বৈঠক থেকে বেরিয়েই ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ৭২ ঘণ্টার ‘ডেডলাইন’ বেঁধে দিয়েছিলেন টলিউড সুপারস্টার। সেই ৭২ ঘণ্টা সম্পূর্ণ হতেই সুখবর দিলেন ‘রাজার রাজা’ দেব।
সোশাল মিডিয়া পোস্টে ডিরেক্টরস’ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, ‘যাঁরা আমার উদ্বেগ প্রকাশের ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে কমপিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া-র কাছে দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহার করেছেন।’

খুশি জাহির করে দেব আরও জানিয়েছেন,’এই পদক্ষেপে আমি ব্যক্তিগতভাবে যে ভীষণ খুশি সে কথা অনস্বীকার্য। একইসঙ্গে এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সদস্য হিসেবে আজ আমি গর্বিত। সিনেমা মূলত পারস্পরিক সহযোগিতা, বোঝাপড়া এবং পরস্পরের কাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার উপর নির্ভরশীল। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই মুহূর্তে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান যেখানে মতভেদগুলো আলাপ-আলোচনা ও পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে সমাধান করা। আমি আশা করি এই পদক্ষেপ আমাদের মতো প্রতিটি শিল্পীর প্রগতিশীল ভবিষ্যৎ ও সুন্দর পরিবেশ গড়তে বিরাট ভূমিকা পালন করবে। ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পীকে নিষিদ্ধ করা সংস্কৃতি থেকে সরে এসে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে যাই।’
পরিচালকদের গিল্ডের তরফে চিঠির মাধ্যমে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং দেবকে জানানো হয়েছে তাঁরা এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তুত। অন্যদিকে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে গিল্ডের সভাপতি সভাপতি শৈবাল মিত্র বলেছেন, “আমরা চিঠি দিয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজব। তবে ‘ব্যান’ উঠে গেল সেটা অখুনি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। একটা প্রক্রিয়া শুরু হল সেটা বলাই যায়। বাকিটা ফেডারেশনের উপর নির্ভর করছে। নিষদ্ধ বা ‘ব্যান’ বিষয়টার উত্থাপন কোথা থেকে সেটাই তো এখনও বুঝতে পারছি না।”
অন্যদিকে ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস এই প্রসঙ্গে জানান, “আমরা এখনও কোনও চিঠি পাইনি।” তবে চিঠি পেলে কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে? স্বরূপের সপাট জবাব, “ভবিষ্যতে কী হবে সেটা তো এখুনি বলা সম্ভব নয়।”
এসএ/টিকে