© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সত্যজিতের ‘মহানগর’-এ খ্যাতি, তবু অভিনয় থেকে দূরে জয়া বচ্চন

শেয়ার করুন:
সত্যজিতের ‘মহানগর’-এ খ্যাতি, তবু অভিনয় থেকে দূরে জয়া  বচ্চন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:০১ পিএম | ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
সত্তর দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া বচ্চন শুধুই পর্দার নয়, বাস্তব জীবনে ও এক শক্তিশালী উপস্থিতি। ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা জয়া ভাদুড়ী ১৯৪৮ সালের ৯ এপ্রিল মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা তরুণ কুমার ভাদুড়ী ছিলেন খ্যাতিমান সাংবাদিক ও লেখক। পরিবারিক প্রভাবেই ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়।

খুব অল্প বয়সে জয়া ভর্তি হন ভারতের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ায়। সেখানে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য তিনি ‘গোল্ড মেডেল’ অর্জন করেন। চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে সত্যজিৎ রায়ের ‘মহানগর’র বাণী চরিত্রে। জয়া বচ্চন শুধুই পর্দার নয়, বাস্তব জীবনে ও এক শক্তিশালী উপস্থিতি।

কিন্তু হিন্দি সিনেমায় শক্তিশালী পদার্পণ হয় ‘গুড্ডি’ দিয়ে, যেখানে সরল, স্বপ্নবিলাসী চরিত্রে দর্শকের হৃদয় জয় করেন তিনি। পরবর্তীতে ‘অভিমান’, ‘কোশিশ’, ‘মিলি’, ‘চুপকে চুপকে’র মতো ছবিতে তিনি স্বতঃস্ফূর্ত, সংযত ও গভীর অভিনয় করে নজর কাড়েন। বিশেষ করে ‘অভিমান’ ছবিতে একজন গায়িকার আত্মসম্মান ও সম্পর্কের টানাপোড়েন যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি তা আজও অমলিন।



জয়ার জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় তার দাম্পত্য জীবন। অমিতাভের সঙ্গে প্রেম এবং পরে বিয়ে বলিউডের ইতিহাসে এক ক্ল্যাসিক গল্প। ‘গুড্ডি’ ও ‘অভিমান’র সময় থেকেই অমিতাভ-জয়ার ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। ১৯৭৩ সালে তারা বিয়ে করেন। পরিবারকে সময় দিতে বিয়ের পর ধীরে ধীরে অভিনয় থেকে সরে আসেন জয়া।

১৯৭৩ সালে অমিতাভের সঙ্গে বিয়ে হয় জয়া বচ্চনের। ভারতের সিনেজগতের ফার্স্ট কাপল বলা হয় অমিতাভ–জয়াকে। তবে তাদের দাম্পত্য জীবন সব সময় মসৃণ ছিল না। বিশেষ করে রেখাকে ঘিরে গুঞ্জন তাদের সম্পর্ককে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। তবে জয়া প্রকাশ্যে কখনো বিতর্কে না জড়িয়ে সব সময় নীরব দৃঢ়তায় নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে প্রেম ও বিয়ে নিয়ে অকপট জয়া জানান, তাদের বিয়ের আগেই অমিতাভ শর্ত রেখেছিলেন যে বিয়ের পর প্রতিদিন ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কাজ করা যাবে না। তবে

‘বিগ বি’ যে তাকে কাজ ছাড়তে বলেননি, তাও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও জয়া রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। জয়া ও অমিতাভের দুই সন্তান অভিষেক বচ্চন ও শ্বেতা বচ্চন। একজন মা হিসেবে জয়া সব সময়ই ছিলেন কঠোর, কিন্তু যত্নশীল। পরিবারই তার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু এ কথা তিনি বারবার বলেছেন।১৯৮০ এর দশকে জয়া প্রায় পুরোপুরি অভিনয় থেকে সরে যান। এ প্রসঙ্গে ২০১৪ সালে অমিতাভ বলেন, ‘একটা বিষয়ে আমি জয়াকে খুব সম্মান করি। বিয়ের পর জয়া সিনেমার চেয়েও পরিবারের প্রতি বেশি মনোনিবেশ করেছিল।’

দীর্ঘ বিরতির পর তিনি আবার পর্দায় ফিরে আসেন ‘হাজার চুরাশি কি মা’ ও ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ ছবি দিয়ে যেখানে জয়ার সংযত কিন্তু আবেগঘন অভিনয় তাঁকে আবারও জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে আসে। অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও জয়া রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। সমাজবাদী পার্টি থেকে রাজ্যসভায় একাধিকবার নির্বাচিত হয়ে নারীর অধিকার,চলচ্চিত্রশিল্প ও সামাজিক বিষয় নিয়ে সোচ্চার ভূমিকা রেখেছেন। সংসদে স্পষ্ট ও দৃঢ় ভাষণ দেয়ায় তিনি শক্তিশালী রাজনৈতিক কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

জয়ার ব্যক্তিত্বের একটি দিক হলো তার স্পষ্টভাষিতা। ব্যক্তিগত কিংবা অযাচিত প্রশ্নে মিডিয়ায় সরাসরি বিরক্তি প্রকাশ করে বারবার আলোচনায় এসেছেন তিনি। এছাড়াও ছবি শিকারীদের সঙ্গে তার তিক্ত সম্পর্কের কারণে অনেকবার কটাক্ষের মুখে পড়েন এই অভিনেত্রী।

এসএ/টিকে


মন্তব্য করুন