যুদ্ধের আড়ালে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অবৈধ বসতির অনুমোদন ইসরাইল
ছবি: সংগৃহীত
০১:০৩ এএম | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির আড়ালে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ৩৪টি নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইল। এটি পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতির জন্য ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অনুমোদন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাতে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রশাসনের অনুরোধে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব বসতি শুধু ফাঁকা বা জনবসতিহীন এলাকায় নয়, বরং অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে—এমনকি ফিলিস্তিনি শহরের আওতাধীন তথাকথিত ‘এরিয়া এ’-তেও গড়ে তোলা হতে পারে, যেখানে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের।
এটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হলেও ২০২২ সালে গৃহীত ইসরাইলি জোট সরকারের কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেখানে পুরো পশ্চিম তীর সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইসরাইলের বর্তমান সরকার গঠনের পর থেকে মোট ১০৩টি নতুন বসতির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে যুদ্ধকালীন জরুরি পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে ২৭১ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেট পাস করেছে ইসরাইলি পার্লামেন্ট। বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড ৪৫.৮ বিলিয়ন ডলার রাখা হলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পশ্চিম তীরের বসতি স্থাপন প্রকল্প।
কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এই বাজেটের মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ পেয়েছেন, যা দিয়ে ফিলিস্তিনি জমিতে ইহুদিদের জন্য বসতি ও নতুন আউটপোস্ট তৈরি করা হবে। স্মোট্রিচ জানিয়েছেন, এই বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য হলো একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া।
আল জাজিরা এক প্রতিবেদন মতে, বাজেটের বিস্তারিত পর্যালোচনায় দেখা যায়, পশ্চিম তীরের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নের নামে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়নের নতুন ছক আঁকা হয়েছে। অবৈধ বসতিগুলোর সুরক্ষায় ড্রোনের ব্যবহার ও সশস্ত্র বেসামরিক নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৬ মিলিয়ন ডলার।
এছাড়া ফিলিস্তিনি শহরগুলোকে খণ্ডবিখণ্ড করতে নির্মাণ করা হচ্ছে বিশেষ বাইপাস সড়ক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ বাজেট নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের কৃষি জমি থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে ইহুদি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার একটি পরিকল্পিত ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’। গত কয়েক বছরে পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতির সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যাওয়া এর ভয়াবহতাকেই স্পষ্ট করছে।
আইকে/টিকে