© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথা ভাবছেন ট্রাম্প!

শেয়ার করুন:
ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথা ভাবছেন ট্রাম্প!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:২৭ এএম | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
হরমুজ প্রণালী সুরক্ষিত করতে ন্যাটো মিত্রদের ব্যর্থতা এবং গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের পরিকল্পনা এগোয়নি বলে ক্ষুব্ধ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিস্থিতির মধ্যে তিনি ইউরোপ থেকে কিছু মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিকল্প নিয়ে উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে জানান হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

অভ্যন্তরীণ আলোচনা নিয়ে কথা বলার জন্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, কোনো সিদ্ধান্ত এখনও নেয়া হয়নি এবং হোয়াইট হাউস মহাদেশটিতে সেনা কমানোর জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়নে পেন্টাগনকে এখনও নির্দেশ দেয়নি।
 
কিন্তু এই আলোচনাগুলোই স্পষ্ট করে দেয় যে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওয়াশিংটন এবং তার ইউরোপীয় ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে সম্পর্ক কতটা তীব্রভাবে অবনতি হয়েছে।
 
এগুলো আরও ইঙ্গিত দেয় যে, বুধবার ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের হোয়াইট হাউস সফর আন্ত: আটলান্টিক সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা বলা যায় ন্যাটোর ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
 
বর্তমানে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের ৮০,০০০-এরও বেশি সৈন্য রয়েছে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে দেশটি ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোতে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এই সৈন্যদের মধ্যে ৩০,০০০-এরও বেশি জার্মানিতে অবস্থান করছে এবং ইতালি, যুক্তরাজ্য ও স্পেনেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।

তবে, এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে ন্যাটো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। এছাড়া ওই কর্মকর্তা বলেননি যে, ট্রাম্প এই পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে গেলে কোন কোন দেশ প্রভাবিত হতে পারে বা শেষ পর্যন্ত কত সৈন্য প্রত্যাহার করা হতে পারে।
 
যদিও ন্যাটোর সাথে ট্রাম্পের সম্পর্ক দীর্ঘকাল ধরেই উত্তাল-তিনি বছরের পর বছর ধরে ইউরোপীয় রাজধানীগুলোকে প্রতিরক্ষা ব্যয়ে কার্পণ্য করেছেন বলে অভিযুক্ত করে আসছেন। গত তিন মাস পরিস্থিতি বিশেষভাবে টালমাটাল ছিল।

জানুয়ারিতে, ডেনমার্কের অধীনস্থ ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ডকে সংযুক্ত করার দীর্ঘদিনের হুমকি বার বার ব্যক্ত করে ট্রাম্প একটি আন্তঃআটলান্টিক সংকট উস্কে দেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন যে, ন্যাটোর মিত্ররা হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে সাহায্যের প্রস্তাব দেয়নি। এই প্রণালীটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ, যা এই সপ্তাহে ঘোষিত একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও মূলত বন্ধই রয়েছে।
 
ন্যাটো কূটনীতিকরা বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে সংঘাত চলাকালীন বা এর পরে কোনো অভিযান শুরু হবে কিনা, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেনি। তারা আরও বলেছেন, প্রতিটি ন্যাটো দেশের কাছ থেকে ঠিক কী ধরনের সক্ষমতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে, সে বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট করে কিছু বলেনি।
 
সূত্র: রয়টার্স

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন