জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে তেল উৎপাদন দৈনিক ৬ লাখ ব্যারেল কমেছে
ছবি: সংগৃহীত
০৭:১৯ এএম | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার কারণে দেশটির তেল উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল এবং পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল কমে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ।
রয়টার্স জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের সূত্রটি হামলাগুলো কারা চালিয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলেনি, তবে সৌদি আরব সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।
এসপিএ জানিয়েছে, কিছু স্থাপনায় পূর্ববর্তী হামলাসহ সর্বশেষ এই হামলাগুলো রিয়াদ, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং ইয়ানবু শিল্প শহরের গুরুত্বপূর্ণ তেল, গ্যাস, শোধনাগার, পেট্রোকেমিক্যাল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমও ব্যাহত করেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধের সময় হওয়া হামলাগুলোর কারণে তেলক্ষেত্রের উৎপাদন, শোধনাগার এবং পাইপলাইন প্রবাহের উপর কী প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে সৌদি আরব এর আগে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানায়নি।
কেপলারের বিশ্লেষক ম্যাট স্মিথ বলেন, ‘পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি সৌদি আরবের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেলকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দিচ্ছে, যা হরমুজ প্রণালী দিয়ে বের হতে পারছে না। সরবরাহের পরিমাণে যেকোনো হ্রাস এই সংকটময় পরিস্থিতিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। এটি বাজারের জন্য কোনো সুখবর নয়।’
এদিকে, কয়েক সপ্তাহ চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার পর এই সপ্তাহে ইরান-মার্কিন যুদ্ধে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। তবে, ইসরাইল লেবাননের ওপর হামলা অব্যাহত রাখায় তা ঝুঁকিতে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে তার প্রায়-পূর্ণ অবরোধ তুলে নেয়ার কোনো লক্ষণই দেখাচ্ছে না; এই প্রণালীটি বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ।
প্রণালীটি অবরুদ্ধ থাকায় পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটিই ছিল সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির একমাত্র পথ।
রয়টার্স বুধবার জানায়, যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই ইরান পাইপলাইনটিতে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় সৌদি জ্বালানি কোম্পানির শিল্প নিরাপত্তা কর্মী দলের একজন সৌদি নাগরিক নিহত এবং আরও সাতজন সৌদি কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে এসপিএ জানিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরব শত শত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আক্রমণের শিকার হয়েছে, যার বেশিরভাগই প্রতিহত করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল। ইরানে হামলা চালিয়েছে তারা দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে।
জবাবে তেহরান ইসরাইল এবং মার্কিন সামরিক স্থাপনা থাকা উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়।
কেএন/এসএন