সাক্ষাতে হাসিমুখ রাখা সওয়াবের কাজ
ছবি: সংগৃহীত
০৫:২৪ পিএম | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
মানুষ সামাজিক জীব—পথে-ঘাটে, কাজে-কর্মে প্রতিনিয়তই আমাদের একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটে। কিন্তু এই সাধারণ সাক্ষাৎও যে ইবাদতে পরিণত হতে পারে, তা আমাদের শিখিয়েছেন মহানবী (সা.)। তিনি দেখিয়েছেন, একজন মুসলিমের আচরণ শুধুমাত্র কথায় নয়, বরং তার হাসি, নম্রতা ও আন্তরিকতায় প্রকাশ পায়। আজকের ব্যস্ত ও স্বার্থকেন্দ্রিক জীবনে আমরা অনেক সময় মানুষকে অবহেলা করি, হাসিমুখে কথা বলাকে তুচ্ছ মনে করি।
অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে একটি মুচকি হাসিও হতে পারে সদকা, হতে পারে জান্নাতের পথে একটি সহজ আমল। তাই হাসিমুখে মানুষের সঙ্গে মিলিত হওয়া শুধু সৌজন্য নয়—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা সমাজে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও মানবিকতা গড়ে তোলে। আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) আমাকে বলেন, ‘কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ ভেবো না, যদিও তা তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করার কাজ হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬২৬) মহানবী (সা.) সর্বদা সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন।
কারো সঙ্গে দেখা হলে কমপক্ষে হাসিমুখে তাকে শুভেচ্ছা জানাতেন। কায়েস (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি জারির (রা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘আমার ইসলাম গ্রহণের পর থেকে মহানবী (সা.) যখনই আমাকে দেখেছেন, আমার সামনে মুচকি হাসি দিয়েছেন।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ২৪৯)
মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করলে সদকার সাওয়াব পাওয়া যায়। (‘সদকা’ মানে দান, যার বিনিময়ে আল্লাহ আখিরাতে পুরস্কৃত করবেন।
এক হাদিসে মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, প্রতিটি ভালো কাজ সদকা। আর গুরুত্বপূর্ণ একটি ভালো কাজ হলো অপর ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা। (তিরমিজি, হাদিস: ১৯৭০)
অন্য হাদিসে মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমার ভাইয়ের (সাক্ষাতে) মুচকি হাসাও একটি সদকা’। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৫৬)
মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে দেখা করলে এবং মানুষকে মূল্যায়ন করলে নিজের মূল্য কমে যায় না; বরং যত্রতত্র মানুষের সঙ্গে ভাব নিয়ে নিজের ব্যক্তিত্বকেই খাটো করা হয়। কারণ অহংকার ব্যক্তিত্বহীনতারই পরিচয় দেয়।
হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি নিজের কোনো মুসলিম ভাইকে খুশি করার জন্য এমনভাবে সাক্ষাৎ করে, যেমনটি সে পছন্দ করে; (এর বিনিময়ে) কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে খুশি করবেন।’ (আলমুজামুস সগির, তাবরানি, হাদিস: ১১৭৮)
সুতরাং, মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে দেখা করা কোনো সাধারণ বিষয় নয়, বরং এটি একটি মহৎ ইবাদত, যা আমাদের চরিত্রকে সুন্দর করে এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে যেমন অন্যের হৃদয়ে আনন্দ সৃষ্টি হয়, তেমনি আল্লাহ তাআলার কাছেও এটি প্রিয় আমল হিসেবে গণ্য হয়। তাই আমাদের উচিত অহংকার ও উদাসীনতা পরিহার করে সবার সঙ্গে আন্তরিকতা ও হাসিমুখে আচরণ করা। এর মাধ্যমে আমরা শুধু মানুষের ভালোবাসাই অর্জন করবো না, বরং আখিরাতেও মহান প্রতিদান লাভ করতে পারব। ইনশাআল্লাহ।
এসএ/টিকে